যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালনার জন্য নির্মিত ডেটা সেন্টারগুলির নির্মাণ কার্য স্থগিত রাখার দাবিতে নতুন একটি আইন প্রস্তাব করেছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। বুধবার উত্থাপিত হতে যাওয়া এই আইনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডেটা সেন্টার মোরেটোরিয়াম অ্যাক্ট’। এই আইনের মাধ্যমে দেশজুড়ে নতুন এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ বা পুরাতনগুলিকে সম্প্রসারণ করা স্থগিত রাখা হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না কংগ্রেস এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাপক আইন প্রণয়ন করছে।
আইনে উল্লিখিত শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে নতুন এআই পণ্যগুলির সরকারি পর্যালোচনা ও অনুমোদন, এআই প্রযুক্তির কারণে চাকরি হারানোর ঝুঁকি হ্রাস, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিরোধ, এবং শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে ইউনিয়নভুক্ত শ্রমিকদের মাধ্যমে ডেটা সেন্টার নির্মাণ। স্যান্ডার্স ইতিমধ্যেই গত ডিসেম্বরে এই ধরনের একটি স্থগিতাদেশের দাবি জানিয়েছিলেন, যদিও ক্যাপিটল হিলে এখনও পর্যন্ত এর ব্যাপক সমর্থন জোগাড় হয়নি।
এই উদ্যোগটি মূলত একটি প্রতীকী প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার লক্ষ্য এআই প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে সমাজে সৃষ্ট ব্যাপক প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। স্যান্ডার্স তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের ভবিষ্যতের অর্থনীতি, গণতন্ত্র এবং মানবতার উপর প্রভাব বিস্তারকারী সিদ্ধান্তগুলি কয়েকজন ধনাঢ্য প্রযুক্তি মোগলের হাতে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে না। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ওপর জনগণের গভীর আলোচনা এবং গণতান্ত্রিক তদারকি প্রয়োজন।”
তবে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের ক্রিপ্টো ও এআই প্রধান ডেভিড স্যাক্স যুক্তি দিয়েছেন যে, এই স্থগিতাদেশের ফলে “চীন এআই প্রতিযোগিতায় জয়ী হবে।” এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে ‘রেটপেয়ার প্রোটেকশন প্লেজ’ নামে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের বিদ্যুৎ ব্যয়ের একটি বৃহত্তর অংশ বহন করতে সম্মত হয়েছে।
অন্যদিকে, এআই ডেটা সেন্টারের বিরোধীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের স্থগিতাদেশ ডিজিটাল পরিষেবাগুলিতে মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে পারে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। ডেটা সেন্টার কোয়ালিশনের সিনিয়র ডিরেক্টর সাই ম্যাকনিল বলেছেন, “ডেটা সেন্টারগুলি আধুনিক জীবনের ভিত্তি। এই স্থগিতাদেশ প্রযুক্তির প্রাপ্যতাকে সীমিত করতে পারে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিতে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।”
এই আইনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদিও প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে, তবুও রাজনৈতিক মহলে এর ব্যাপক সমর্থন আদায় করা সহজ হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন