আগামী ১৫ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর রিটার্ন জমার শেষ তারিখ। এই সময়ে লক্ষ লক্ষ মার্কিন নাগরিক তাদের আয়কর বিবরণী চূড়ান্ত করে চলেছেন। কেউ চান না আইআরএস বা অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার কাছ থেকে অযাচিত কোনো নোটিশ পেতে। যদিও আইআরএসের অডিট বা পরীক্ষা তুলনামূলকভাবে বিরল ঘটনা, তবুও কিছু ছোটখাটো ভুল বা অসঙ্গতি আপনার রিটার্নকে পরীক্ষার মুখোমুখি করতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে, যা আপনার রিটার্ন প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও নির্ভার করে তুলবে।
আইআরএস অডিট কীভাবে হয়? আইআরএস অডিট হল এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে তারা আয়কর বিবরণীর তথ্যগুলি যাচাই করে। এই পরীক্ষাগুলি সাধারণত এলোমেলোভাবে হয় না। সাধারণত, তথ্যের অসঙ্গতি, অস্বাভাবিক আয়কর জমার ধরন বা উচ্চ আয় বা স্ব-কর্মসংস্থানের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিবরণীগুলি পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়। এছাড়া বিদেশী আয় বা বিদেশি সম্পদের ক্ষেত্রেও বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। প্রতি বছর মাত্র ০.২% থেকে ০.৫% রিটার্ন পরীক্ষা করা হয়, অর্থাৎ প্রায় ২০০ থেকে ৫০০টি বিবরণীর মধ্যে মাত্র একটি পরীক্ষিত হয়।
আইআরএস অডিট শুরু হয় সাধারণত একটি চিঠির মাধ্যমে। এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় কোন কোন বিষয়ে পরীক্ষা করা হবে এবং কোন কোন নথিপত্র জমা দিতে হবে। আইআরএস কখনোই ফোন বা ইমেইলের মাধ্যমে অডিট শুরু করে না। সাধারণত, তিন বছরের তথ্য পরীক্ষা করা হয়, তবে গুরুতর অসঙ্গতি বা জালিয়াতির ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ছয় বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে।
কীভাবে এড়ানো যায় আইআরএস অডিট? আইআরএস অডিট এড়ানোর প্রধান উপায় হল সঠিক তথ্য প্রদান এবং নিয়মিত রেকর্ড রাখা। প্রথমত, আয়কর বিবরণীতে সকল আয় সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। আইআরএস বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে আয় সম্পর্কিত তথ্য পেয়ে থাকে, যেমন ডাব্লিউ-২ বা ১০৯৯ ফর্ম। যদি আপনার প্রদত্ত তথ্য ও তৃতীয় পক্ষের প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকে, তাহলে তা আইআরএসের নজরে আসতে পারে। এছাড়া প্রতি বছরের বিবরণীতে ব্যক্তিগত তথ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ, যেমন যৌথ বিবরণীতে নামের ক্রম।
রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সকল প্রমাণপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন। রসিদ, সমর্থনকারী নথিপত্র এবং বিবরণীর একটি অনুলিপি কমপক্ষে তিন বছর ধরে রাখুন। আইআরএসের কাছ থেকে কোনো চিঠি আসলে শুধুমাত্র অনুরোধ করা নথিপত্র জমা দিন এবং প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট ও সুসংগঠিত রাখুন। বিদেশি আয় বা সম্পদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন। বিদেশি ব্যাংক হিসাব সম্পর্কিত তথ্য অবহেলা করলে তা জরিমানা বা দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার কারণ হতে পারে।
যদি কোনো ভুল ধরা পড়ে যায়, তাহলে সংশোধিত বিবরণী জমা দিতে পারেন। এটি আসল বিবরণীর পরীক্ষার সম্ভাবনা বাড়ায় না, তবে সংশোধিত বিবরণী আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হতে পারে। আইআরএসের কাছ থেকে কোনো চিঠি পেলে ভয় পাবেন না। সাধারণত, আপনি আরও সময় চেয়ে নিতে পারেন। চিঠির মাধ্যমে অডিটের ক্ষেত্রে একবার ৩০ দিনের এক্সটেনশন পাওয়া যায়। আর জটিল ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। অনেক সময় আইআরএস মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করতে পারে।
বেশিরভাগ অডিটের ফলাফল হয় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই শেষ হয়, অথবা সমঝোতার মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ধৈর্য ও সঠিক তথ্য প্রদান করা। আয়কর জমা দেওয়া মানেই নিজেকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাখা নয়, বরং নিজের আয় ও ব্যয় সম্পর্কে স্বচ্ছ থাকা।
মন্তব্য করুন