আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের আটলান্টিক হারিকেন মরশুম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস দিলেন মার্কিন আবহাওয়াবিদরা। বিশিষ্ট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের মতে, এবছর মোট ১১ থেকে ১৬ টি ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হতে পারে। এর মধ্যে চার থেকে সাতটি ঘূর্ণিঝড় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি দুই থেকে চারটি ঘূর্ণিঝড় আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে ক্যাটেগরি তিন বা তার বেশি শক্তিশালী হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই পূর্বাভাসের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এল নিনো নামক আবহাওয়ার বিশেষ ধরণটি। এল নিনো হল একটি পর্যায়ক্রমিক জলবায়ুগত ঘটনা, যা সামুদ্রিক তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার ধরণকে প্রভাবিত করে থাকে। অ্যাকুওয়েদারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, হারিকেন মরশুমের শেষভাগে অর্থাৎ বছরের শেষের দিকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এছাড়াও, হারিকেন মরশুম শুরু হবে আগামী জুন মাস থেকে এবং তা চলবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত।
আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। সাধারণত এল নিনোর প্রভাবে আটলান্টিক অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা কমে যায়, তবে এবার তার ব্যতিক্রম ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সুপার এল নিনোর প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী হলে তা ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের উচিত আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পরেও অনেক সময়ই মানুষ অপ্রস্তুত থাকেন, যা বিপদ আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই পূর্বাভাসটি এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং আরও বিস্তারিত তথ্য আসতে থাকবে। আপাতত আবহাওয়াবিদরা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করে দিচ্ছেন।
মন্তব্য করুন