গত তিন বছর ধরে নিয়মিত একটি বাড়িতে ডেলিভারি দিতে আসতেন এক ড্রাইভার। তাঁর নিয়মিত কাজ ছিল পার্সেল ডেলিভারির প্রমাণ হিসেবে মালিককে ফোনে ছবি পাঠানো। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই ছবিগুলির প্রতিটি ফ্রেমেই উঁকি দিত তিনটি কুকুরের মুখ—ফ্রেয়া, অ্যাডালিন্ড আর বিয়ার। দরজার সামনে বা জানালা দিয়ে তারা তাকিয়ে থাকত ড্রাইভারের দিকে, যেন তাঁর আগমনের খবর তারা আগেই পেয়ে গেছে!
মালিক মরিসা তাঁর ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে (@maruhusky) ড্রাইভারের শেষ বার্তাটি শেয়ার করেছেন, যা দেখে তাঁর চোখে জল এসে গিয়েছে। ড্রাইভার লিখেছিলেন, “আমি শুধু ধন্যবাদ জানাতে চেয়েছিলাম। আপনার কুকুরদের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতাম বলেই আমার দিনটা ভালো যেত। পার্সেল ডেলিভারি করতে আসলে তাদের মুখগুলো দেখে মনটা ভালো হয়ে যেত। অনেক দিনই কঠিন ছিল, কিন্তু তাদের অপেক্ষায় থাকা দেখে মনটা হালকা হয়ে যেত।”
তিন বছরের এই ‘অলিখিত রুটিন’ শুরু হয়েছিল একেবারে স্বাভাবিকভাবেই। ড্রাইভার সাধারণত পার্সেলের প্রমাণ হিসেবে ছবি পাঠাতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে লক্ষ্য করলেন, সব সময়ই দরজার সামনে বা জানালা দিয়ে তিনটি কুকুর তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে। মরিসার কথায়, “প্রথমবার যখন সেই ছবিগুলো পেয়েছিলাম, ভীষণ অবাক হয়েছিলাম—একেবারে মিষ্টি ধরনের অবাক। নিজের কুকুরদের অন্য কারও চোখ দিয়ে দেখার অনুভূতি ছিল অসাধারণ।” ধীরে ধীরে এই ছবিগুলো তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল এক বিশেষ আনন্দের উৎস।
ড্রাইভারের শেষ বার্তাটি পাওয়ার পর মরিসা বুঝতে পারেন, তাঁর পোষা প্রাণীরা অন্য কারও দিনকেও সুন্দর করে তুলেছিল। তিনি বলেন, “তাঁর চোখে আমাদের কুকুরদের আনন্দ দেখে আমাদেরও ভালো লাগত। এখন বুঝতে পারছি, তাঁর কাছে আমাদের কুকুররা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, কিন্তু মরিসা চান তাঁদের মধ্যে সেই বন্ধন আরও গভীর হোক। তিনি বলেন, “আমাদেরও তাঁকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। তাঁর কাছে আমাদের মুহূর্তগুলোও কতটা মূল্যবান ছিল।”
এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটির দেখা যায় ৫১ লক্ষেরও বেশি বার এবং প্রায় নয়শো মন্তব্য। মানুষ তাঁর উদারতা আর আন্তরিকতায় মুগ্ধ। একজন মন্তব্যকারী লেখেন, “কী মধুর! তোমাদের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উচিত।” আরেকজন লিখেছেন, “মানুষ যখন নিজের ইচ্ছায় এসে বলে যে তোমাদের কুকুররা তাঁর মনটাও ভালো করে দিয়েছে, তখন কতটা সুন্দর অনুভূতি হয়।”
এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, পোষা প্রাণীরা শুধু ঘরের মধ্যেই নয়, বরং তারা অন্যের জীবনেও আনন্দের ছোঁয়া এনে দেয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই কুকুররা ডেলিভারি ড্রাইভার বা মেইল ক্যারিয়ারের দিকে ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে যায়—এটা তাদের রক্ষণাত্মক প্রবৃত্তির প্রকাশ। কিন্তু মরিসার কুকুরদের মতো যদি তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় বা খেলনা দিয়ে ব্যস্ত রাখা যায়, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও ইতিবাচক হতে পারে।
কুকুরদের এই আনন্দময় মুহূর্তগুলোর ছবি বা ভিডিও যদি আপনার কাছে থাকে, তাহলে তা শেয়ার করতে পারেন Newsweek-এর কাছে। তাঁরা তা প্রকাশ করতে পারেন তাদের ‘Pet of the Week’ সিরিজে। জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলোই আমাদের দিনগুলোকে স্মরণীয় করে তোলে।
মন্তব্য করুন