মঙ্গলবার রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠেছে ইউক্রেন। দেশটির বিভিন্ন শহরে একযোগে চালানো এই হামলায় ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত লভিভ শহরের একটি সতেরো শতকের পুরনো গির্জা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন ধরে গির্জাটির দেয়াল পুড়ে গেলেও স্থানীয় জনগণ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় নামেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘অমানবিক যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই বিবৃতি দিয়ে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের সাংস্কৃতিক সম্পদ ধ্বংস করা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
লভিভের ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থিত সেন্ট জর্জ ক্যাথেড্রালটি ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিদর্শন। সতেরো শতকে নির্মিত এই গির্জাটি তার স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। স্থানীয়দের মতে, হামলার পরপরই দমকল বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু করেন। তবে ধ্বংসের পরিমাণ এতটাই ব্যাপক যে তা পুনরুদ্ধার করতে কয়েক মাস甚至 বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের হামলায় কমপক্ষে পাঁচটি শহরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী কিয়েভেও একাধিক স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সাংস্কৃতিক স্থাপনা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উচ্চ কমিশনার ভোলকার তুর্ক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এমন কর্মকাণ্ড মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইউক্রেনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় ফ্রান্স সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসও রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইতোমধ্যেই ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী দিনগুলোতে আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মারিউপোল শহরেও মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউক্রেনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন