ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ঘটা মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৪ মার্চ রবিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় এই হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, বিএনপির স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরেই এই মারামারি শুরু হয়।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বিশদ বিবরণ পাওয়া গেলেও, দুই গ্রুপের মধ্যে কী কারণে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। স্থানীয় সূত্রমতে, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র ও পাথর নিয়ে হামলা চালায়। ফলে ঘটনাস্থলেই দুইজন গুরুতর আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও অন্তত আট থেকে দশজন আহত হন, যাদের বেশিরভাগই স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে উভয় পক্ষের কর্মীরা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়। বিএনপির জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের নেতৃবৃন্দ ঘটনার তদন্তে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থামাতে সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দলটির অভ্যন্তরীণ বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যে দলটির প্রতি অনাস্থার সৃষ্টি করছে।
ঘটনার তদন্তে নামা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দুই গ্রুপের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কথা শোনা গেলেও, আদতে এটি দলীয় কর্মীদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফলে ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও ফুটেজ ও আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন