ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া তাদের সামরিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সস্তা ও সাধারণ ড্রোনগুলিকে অত্যাধুনিক নজরদারি সরঞ্জামে রূপান্তরিত করে তারা যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল সাফল্য পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া তাদের ‘মল্নিয়া’ নামক স্ট্রাইক ড্রোনগুলিতে অতিরিক্ত ব্যাটারি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। ফলে এখন এই সস্তা ড্রোনগুলি শুধু আঘাত হানার উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, বরং তারা যুদ্ধক্ষেত্রের গোয়েন্দাগিরিতেও নিয়োজিত রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সের্হি ‘ফ্ল্যাশ’ বেসক্রেস্তনভ জানিয়েছেন, রাশিয়া প্রায় দুই মাস আগে থেকে এই পরিবর্তিত মল্নিয়া ড্রোনগুলি ব্যবহার শুরু করেছে। এই ড্রোনগুলি যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত ব্যয়বহুল নজরদারি ড্রোনগুলির তুলনায় এই মল্নিয়া ড্রোনগুলি অনেক সস্তা এবং সহজেই উৎপাদনযোগ্য। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো ইউক্রেনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। ফলে রাশিয়া তাদের সস্তা ও সহজেই প্রতিস্থাপনযোগ্য ড্রোনগুলির উপর বেশি নির্ভর করছে।
মল্নিয়া ড্রোনগুলি সাধারণত পlywood, foam এবং অ্যালুমিনিয়ামের মতো হালকা উপাদান দিয়ে তৈরি। এগুলি উৎপাদন করা অত্যন্ত সস্তা এবং সহজ। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ডিমিত্রো স্মোলিয়েঙ্কো জানিয়েছেন, রাশিয়া কম খরচে দশ থেকে পনেরটি মল্নিয়া ড্রোন উৎপাদন করতে পারে, যা ব্যয়বহুল নজরদারি ড্রোনগুলির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। এই পরিবর্তনকে তিনি ‘স্কেলের যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে প্রচুর পরিমাণে সস্তা ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় দেশই তাদের ড্রোনগুলির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য নিত্যনতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ করছে। উদাহরণস্বরূপ, রাশিয়া এখন তাদের ড্রোনগুলিতে ফাইবার অপটিক কেবল ব্যবহার করছে, যা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করছে। আগে শুধুমাত্র ছোট FPV ড্রোনগুলিতে ব্যবহৃত হলেও এখন বড় আকারের স্থির ড্রোনগুলিতেও এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির এই পরিবর্তন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিকে পাল্টে দিচ্ছে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই তাদের ড্রোনগুলিকে আরও উন্নত ও কার্যকর করার জন্য ক্রমাগত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের কৌশল ও প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটছে, যা ভবিষ্যতে যুদ্ধের চেহারাই পাল্টে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন