সম্পর্কের মধ্যে দূরত্বই হল সুখের মূলমন্ত্র। এমনটাই বিশ্বাস জেমি মাজুরের। নয় বছরের বিবাহিত জীবনে স্বামীর সঙ্গে খুব কমই ভ্রমণ করেছেন তিনি। নিজে একা ভ্রমণ করেন, নিজের শখ পূরণ করেন। তার মতে, এটাই তাঁদের সুখী দাম্পত্যের অন্যতম কারণ। বিবাহিত জীবনে সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করা যে সবসময় ভালো, তা নয়। দুই ব্যক্তির ভ্রমণের ধরন ভিন্ন হলে তা বিবাহিত জীবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, একসঙ্গে ভ্রমণ করতে গিয়ে দম্পতিরা একে অপরের উপর বিরক্ত হয়ে যান। কিন্তু জেমি সে পথে না গিয়ে নিজের মতো করে ভ্রমণ করে আসেন। তাঁর অভিজ্ঞতা হল, এতে তাঁদের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে।
জেমি মাজুর জানান, তাঁর স্বামী ভ্রমণ পছন্দ করেন না। তাই তিনি প্রায়শই একা ভ্রমণ করেন বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যান। এই ব্যবস্থা তাঁদের দুজনেরই নিজ নিজ শখ ও আগ্রহ পূরণের সুযোগ করে দেয়। তাঁর মতে, আলাদা আলাদা সময় কাটানোর ফলে যখন তাঁরা একত্র হন, তখন কথাবার্তা হয় আরও গভীরভাবে। তাঁর স্বামী গলফ খেলতে ভালোবাসেন। প্রায় দশ বছর ধরে তিনি নিয়মিত গলফ খেলেন। অন্যদিকে, জেমি নিজের ভ্রমণ ও স্বাদগ্রহণের শখ মেটানোর জন্য সময় বের করেন। এমনকি তিনি একজন সার্টিফায়েড সোমিলিয়ারও হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, সম্পর্কের মধ্যে নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা আলাদা শখ থাকা মানেই তা সম্পর্কে কোনো ধরনের বিরক্তি বা অসন্তুষ্টি নয়। বরং এতে দুজনেরই নিজেদের পরিচয়কে সম্মান জানানো হয়।
জেমির বিবাহিত জীবনের আরেকটি ইতিবাচক দিক হল অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। তাঁরা যখন আলাদা ভ্রমণ করেন, তখন তাঁদের যৌথ ভ্রমণের তুলনায় খরচ কম হয়। একজনকে একাই ভ্রমণ খরচ বহন করতে হয়, যাতে করে দুইজনের যৌথ খরচের চাপ থাকে না। এছাড়াও, ঘরে থাকা সঙ্গীটি পোষা প্রাণীদের দেখাশোনা করতে পারেন। ফলে পোষা প্রাণীদের জন্য আলাদা খরচ করতে হয় না। এমনকি ঘর পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটিও আলাদা হয়ে যায়। জেমি বলেন, তাঁর স্বামী ঘর সামলে রাখেন যখন তিনি ভ্রমণে থাকেন। ফলে ফিরে এসে তাঁকে ঘর গোছানো নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। এছাড়াও, তাঁর স্বামী বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি কাজ করায় তাঁদের সংসার জীবনও অনেক সহজ হয়ে যায়।
জেমির মতে, দূরত্ব সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। তাঁরা যখন আলাদা সময় কাটান, তখন একে অপরের প্রতি আরও বেশি আগ্রহ ও ভালোবাসা অনুভব করেন। তাঁর ভাষায়, সম্পর্কের মধ্যে আলাদা সময় কাটানো মানে একে অপরের প্রতি আরও বেশি শ্রদ্ধা ও মূল্যায়ন করা। জেমি ও তাঁর স্বামী দুজনেই আলাদা আলাদা শখ ও আগ্রহ অনুসরণ করেন। তাঁদের সম্পর্কে কোনো ধরনের বিরক্তি বা অসন্তুষ্টি নেই। বরং তাঁরা নিজেদের মতো করে সুখী জীবন উপভোগ করেন। তাঁদের সম্পর্কের এই অভিনব ধারণা অনেক দম্পতির জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যারা একসঙ্গে ভ্রমণ করতে গিয়ে বিবাদের মুখোমুখি হন, তাঁদের জন্য জেমির অভিজ্ঞতা নতুন পথ দেখাতে পারে।
বর্তমান যুগে যেখানে প্রতিটি সম্পর্কেই দম্পতিরা একে অপরের সঙ্গে সব সময় একসঙ্গে থাকতে চান, সেখানে জেমির মতো ভিন্নমত অনেকের জন্যই নতুন ধারণা হতে পারে। সম্পর্ক যে সবসময় একসঙ্গে কাটানোর মধ্যেই সুখী হওয়া যায়, তা নয়। নিজের শখ ও আগ্রহকে সম্মান জানানো এবং আলাদা সময় কাটানোর মাধ্যমে সম্পর্ক আরও মজবুত ও সুখী হয়ে ওঠে। জেমির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেক দম্পতিই তাঁদের সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও স্বচ্ছন্দ করে তুলতে পারেন। সম্পর্কের মধ্যে নিজস্বতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী হয়ে ওঠে।
মন্তব্য করুন