গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যে গ্যাসের মূল্য ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই বলছেন, গাড়ির জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে আনতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের গড় মূল্য প্রতি গ্যালন প্রায় ৩.৫০ ডলার থেকে ৪ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। তবে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে এই মূল্য আরও বেশি। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাসের কিছু এলাকায় গ্যাসের মূল্য প্রতি গ্যালন ৪.৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অনেকেই অফিসে যাতায়াতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন, আবার কেউ কেউ গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদি যুদ্ধ আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও চড়তে পারে। এর ফলে গ্যাসের দামও আরো বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্যের গভর্নররা মার্কিন সরকারের কাছে জ্বালানি মূল্যের নিয়ন্ত্রণের জন্য জোর দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো যদি সরবরাহ বৃদ্ধি করে, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে তাদের ব্যবসায়িক ব্যয়ও বেড়েছে। বিশেষ করে যারা গাড়ি চালিয়ে ব্যবসা করেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ছোট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি মূল্য আদায় করতে শুরু করেছেন, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, তারা বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সমাধান খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান প্রভাবিত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন