ঈদের ছুটিতে রাজধানীবাসীর অন্যতম প্রিয় বিনোদনস্থল হয়ে উঠেছে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটির দিনগুলোকে আনন্দঘন করে তুলতে অনেকেই ছুটে আসেন এই প্রাণীবৈচিত্র্যের স্বর্গে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে চিড়িয়াখানার প্রবেশপথ থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রাণীর খাঁচার সামনে উপচেপড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শনার্থীদের মধ্যে শিশুরাই ছিলেন সবচেয়ে উৎসাহী—তাদের উল্লাস আর আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পুরো চিড়িয়াখানাটি।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতি বছর ঈদের সময় দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সকাল থেকেই চিড়িয়াখানার প্রবেশদ্বারে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অভিভাবকরা শিশুদের হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচার সামনে। জিরাফ, হরিণ, ময়ূর, বানর—সবার সামনে ভিড় জমিয়ে দর্শনার্থীরা নিজেদের ক্যামেরা আর মোবাইলে মুহূর্তগুলো ধরে রাখতে ব্যস্ত ছিলেন।
চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে শিশুদের উল্লাস। কেউ কেউ খাঁচার লোহার রড ধরে উঁচুতে উঠে প্রাণীদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউবা মাটিতে বসে খেলায় মেতেছেন। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রতি মুহূর্তে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন যেন কোনো প্রাণীর ক্ষতি না হয় অথবা শিশুরা নিজেরা বিপদে না পড়েন।
চিড়িয়াখানার বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে ময়ূরের সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল। চিড়িয়াখানার কর্মীরা জানান, ময়ূরের পালক আর নাচ দেখে অনেক শিশু মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, জিরাফের খাঁচার সামনে দীর্ঘ লাইন ছিল সবচেয়ে বেশি। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের জিরাফের দিকে হাত তুলে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন আর শিশুরা উল্লাসে চিৎকার করে উঠছিল।
জাতীয় চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলম বলেন, ‘ঈদের সময় দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে আমাদের কর্মীরা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইন নিয়ন্ত্রণ করা, পর্যাপ্ত পানি ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, চিড়িয়াখানার বিভিন্ন প্রাণীর স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে বিশেষ দল কাজ করছে।’ তিনি আরও জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি যেন দর্শনার্থীরা নিরাপদে আর আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন।’
ঈদের ছুটির শেষ দিনেও চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেক পরিবারই পুরো দিনটিকে চিড়িয়াখানায় কাটিয়ে দিয়েছেন। অভিভাবকরা জানান, এমন প্রাণীবৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়া শিশুদের জন্য খুবই শিক্ষণীয়। অন্যদিকে, শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ মিলেছে অনেকেরই।
মন্তব্য করুন