পনেরো বছর আগে বগ ব্যাগের যাত্রা শুরু করেছিলেন কিম ভ্যাকারেল্লা। তাঁর স্বপ্ন ছিল কর্মজীবী মায়েদের জন্য আদর্শ সৈকত ব্যাগ তৈরী করা। তিনি দেখেছিলেন ফ্লিপ-ফ্লপ তৈরীতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের স্থায়িত্ব এবং জলেরোধক ক্ষমতা। সেই ধারণা থেকেই জন্ম নিয়েছে বগ ব্যাগ – যার স্বত্বাধিকারী নকশায় রয়েছে স্বতন্ত্র ছিদ্র এবং সমতল তলা, যা ব্যাগটিকে উল্টে যেতে দেয় না।
কিন্তু সাফল্যের শিখরে ওঠার সাথে সাথে কিমের সামনে এসেছে নতুন সমস্যা। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে বগ ব্যাগ যখন ভাইরাল হয়েছে, তখন তার নকলও ছড়িয়ে পড়েছে বাজারে। মূল্য যেখানে পঞ্চাশ পাঁচ ডলার থেকে শুরু করে একশো ডলার পর্যন্ত, সেখানে অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র বিশ ডলারের কাছাকাছি দামে নকল ব্যাগ। এই নকল ব্যাগগুলি ব্যবসায়ে লক্ষাধিক ডলারের ক্ষতি করছে বলে জানিয়েছেন কিম। তবুও তিনি হার মানেননি।
কিম জানান, সামাজিক মাধ্যম যেমন ব্যবসার প্রসারে সহায়ক হয়েছে, তেমনই প্রতিযোগিতাও বাড়িয়েছে। জেনারেশন জেড-এর প্রতি মনোযোগী অনেক ব্র্যান্ডের বিপরীতে বগ ব্যাগের প্রধান গ্রাহকরা হলেন তেত্রিশ থেকে চৌষট্টি বছর বয়সী মহিলারা, বিশেষত মায়েরা। তাঁদের প্রয়োজন মেটাতেই বগ ব্যাগ ডিজাইন করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেই তাঁদের মধ্যে শতকরা আটাত্তর ভাগই নতুন ক্রেতা হিসেবে আসছেন।
নকল ব্যাগের সাথে লড়াই করতে গিয়ে কিম তিনটি মূলনীতি অনুসরণ করেন। প্রথমত, তাঁর ব্র্যান্ডের লক্ষ্যবস্তু গ্রাহকদের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। দ্বিতীয়ত, নিজের আইডিয়া রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তৃতীয়ত, গ্রাহকদের এমন সুবিধা দেওয়া যা নকল ব্যাগে সম্ভব নয়। তিনি জানান, বগ ব্যাগের গ্রাহক সেবা অতুলনীয়। ব্যাগ নষ্ট হয়ে গেলে তাঁরা নতুন বোতাম বা এমনকি সম্পূর্ণ ব্যাগও পাঠিয়ে দেন। এছাড়া, বিভিন্ন আনুষঙ্গিক জিনিস দিয়ে ব্যাগটিকে আরও কার্যকরী এবং স্টাইলিশ করে তোলা যায়, যা নকল ব্যাগে সম্ভব নয়।
বর্তমানে বগ ব্যাগের বার্ষিক আয় প্রায় একশো মিলিয়ন ডলার। কিম বিশ্বাস করেন যে, গ্রাহকদের প্রতি আন্তরিকতা এবং মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করেই তিনি তাঁর ব্র্যান্ডকে টিকিয়ে রাখবেন। নকল ব্যাগ যেমন সহজলভ্য, তেমনই তা ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু বগ ব্যাগের স্থায়িত্ব এবং পরিষেবা গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদী আনুগত্য এনে দিচ্ছে। ফলে ক্রেতারা সহজেই তাঁদের নকল ব্যাগ ছেড়ে বগ ব্যাগের দিকে ঝুঁকছেন।
মন্তব্য করুন