বিশ্বখ্যাত বাস্কেটবল তারকা লেব্রন জেমস সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ারে আরেকটি বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। শনিবার অরল্যান্ডো ম্যাজিকের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলস লেকার্সের জয়কে তিনি আরও বর্ণাঢ্য করে তুললেন নিজের রেকর্ড ভাঙার মধ্য দিয়ে। এবারের ম্যাচেই তিনি এনবিএ ইতিহাসের সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি নিজের নামে লিখালিখি করলেন। রবার্ট পারিশের সাথে যৌথভাবে থাকা ১,৬১২ ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি এখন এককভাবে দখল করলেন লেব্রন। তার এই অসাধারণ কৃতিত্ব শুধু দীর্ঘায়ুতাকেই নয়, অসাধারণ দক্ষতা ও সামর্থ্যকেও তুলে ধরে।
লেব্রনের ক্যারিয়ারে নতুন রেকর্ড যুক্ত হওয়ায় পুরো ক্রীড়া জগতেই আলোচনার ঝড় উঠেছে। শুধু ম্যাচের সংখ্যা নয়, তিনি এখন পর্যন্ত সর্বাধিক পয়েন্ট স্কোরিং, সর্বাধিক মিনিট খেলা, সর্বাধিক অল-এনবিএ নির্বাচন, সর্বাধিক অল-স্টার নির্বাচন, সর্বাধিক ফিল্ড গোল, সর্বাধিক ফিল্ড গোল অ্যাটেম্পট, সর্বাধিক প্লে অফ ম্যাচ ও সর্বাধিক প্লে অফ পয়েন্টের মতো একাধিক রেকর্ড নিজের ঝুলিতে রাখছেন। এমনকি তার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রেও তিনি শীর্ষস্থানে রয়েছেন। তার নিয়মিত পারফরম্যান্স ও অবিচল মনোভাব তাকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে তুলেছে।
লেব্রন জেমসের এই অভাবনীয় যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। সেই সময় থেকে তিনি এখন পর্যন্ত ২৩টি মরসুম খেলেছেন, যা ভিন্স কার্টারের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। তার ক্যারিয়ারে বর্তমান পর্যন্ত যতগুলো রেকর্ড তিনি ভেঙেছেন, তার অধিকাংশই ছিল তার নিজের পূর্ববর্তী রেকর্ড। এর মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট, সবচেয়ে বেশি খেলা মিনিট, সবচেয়ে বেশি ফিল্ড গোলের চেষ্টা। এমনকি তার দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে কমপক্ষে ১০ পয়েন্ট করার রেকর্ডও রয়েছে, যা ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
লেব্রনের এই অসাধারণ সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার অবিশ্বাস্য পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি কখনোই নিজেকে রেকর্ড ব্রেকার হিসেবে দেখেননি। তার মতে, এই সমস্ত অর্জনগুলো তার নিজের ইচ্ছার ফসল নয়, বরং সময়ের সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবেই অর্জিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন হতে চেয়েছিলেন, এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হতে চেয়েছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে তিনি সফলও হয়েছেন। তার ক্যারিয়ারে চারবার এনবিএ শিরোপা জয় তার সেরা প্রমাণ।
লেব্রনের এই যাত্রা এখনও থেমে নেই। তিনি এখনও বিভিন্ন বিভাগে নিজের নাম উজ্জ্বল করছেন। যদিও তার কিছু কিছু রেকর্ড ভাঙা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবুও তিনি নতুন নতুন বিভাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। যেমন অ্যাসিস্ট বিভাগে তিনি চতুর্থ স্থানে রয়েছেন এবং শীঘ্রই তিনি জেসন কিড ও ক্রিস পলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে স্টিল বিভাগেও তিনি শীর্ষ ছয়জন খেলোয়াড়ের একজন। তার এই অবিচল যাত্রা ক্রীড়া জগতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে আরো অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।
মন্তব্য করুন