বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। তবে এই সুবিধা ব্যবহারের সময় অনেকেই জানেন না যে, নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে শেয়ার করে ফেলছেন। ইমেইল ঠিকানা, অবস্থানসংক্রান্ত বিবরণ এমনকি ব্যক্তিগত অভ্যাস সম্পর্কিত তথ্যও কথোপকথনের মধ্য দিয়ে উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে। এছাড়া, ব্যবহৃত প্রম্পট বা নির্দেশনা পরবর্তীকালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের প্রশিক্ষণের কাজেও ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় সচেতন হওয়া জরুরি।
ওপেনএআই তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য প্রাইভেসি পোর্টাল চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। এই পোর্টাল থেকে তথ্য মুছে ফেলা, নিজস্ব কনটেন্ট ডাউনলোড করা কিংবা পুরো অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কথোপকথনের তথ্য ভবিষ্যত প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত না হওয়ার অনুরোধও জানানো যায়। প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাইভেসি পোর্টাল ব্যবহারের জন্য প্রথমে ওপেনএআইয়ের প্রাইভেসি পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ‘মেক আ প্রাইভেসি রিকোয়েস্ট’ অপশনে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অনুরোধ জানানো যাবে। এছাড়া পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সরকারি পরিচয়পত্র বা বহুমাত্রিক যাচাইকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। পরবর্তী ধাপে তথ্য ডাউনলোড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত না হওয়ার অনুরোধ, অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা বা ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করা যাবে। প্রয়োজনীয় বিকল্প নির্বাচন করে ‘সাবমিট রিকোয়েস্ট’ বাটনে ক্লিক করলেই অনুরোধটি জমা পড়বে।
অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি মুছে না ফেলেও কিছু সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। চ্যাটজিপিটির সেটিংসে গিয়ে ‘ইমপ্রুভ দ্য মডেল ফর এভরিওয়ান’ অপশনটি বন্ধ করলে ব্যবহারকারীর কথোপকথন ভবিষ্যত মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হবে না। এছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত ‘মেমোরি’ সুবিধাটিও প্রয়োজনে বন্ধ করা যেতে পারে। সংবেদনশীল আলোচনার ক্ষেত্রে ‘টেম্পোরারি চ্যাট’ সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে কথোপকথন স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ না করে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী পূর্বের চ্যাটগুলো মুছে ফেলাও সম্ভব।
ওপেনএআইয়ের প্রাইভেসি পোর্টালের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ থাকলেও ব্যবহারকারীদের নিজেদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কথোপকথনের সময় অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করে সংক্ষিপ্ত ও যথাযথ নির্দেশনা প্রদান করলে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে চ্যাটের ইতিহাস পর্যালোচনা করা এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলা উচিত। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এ সেবাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন