ঈদের আনন্দমুখর দিনে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে শুরু হওয়া এই পরিদর্শন শেষ হয় বিকেল দুটোর কিছু পর। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়ন করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার মান ধরে রাখতে মন্ত্রীর প্রশংসা কুড়ায় কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের রান্নাঘরের পরিবেশ দেখে বিশেষভাবে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘রোগীদের জন্য পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ ঈদের দিন রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা হিসেবে পোলাও, মুরগির মাংস, সেমাই, রুটি ও গ্রামীণ পিঠা পরিবেশন করা হয়। একইসঙ্গে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন। মন্ত্রীর মতে, চিকিৎসকরা যথাসময়ে দায়িত্ব পালন করছেন এবং রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন। পরিদর্শনকালে তিনি সরাসরি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সন্তুষ্টি যাচাই করেন।
কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান, কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন আলমসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩০ থেকে ৪০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের লিয়েন ও ডেপুটেশনের বিষয়ে কড়া বার্তা দেন। তিনি জানান, উদ্দেশ্যমূলকভাবে যারা লিয়েন বা ডেপুটেশনে বাইরে রয়েছেন তাদের ৩০ দিনের মধ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণের জন্য যারা বাইরে রয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, ছুটি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করাকে অনৈতিক হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনার জন্য ইতিমধ্যে এক চিকিৎসকের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবশ্যই নিজ নিজ কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে। তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কোনো সুযোগ নেই।’ সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালের দায়িত্ব পালনে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে সরকারি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও এর ব্যতিক্রম নয়। মন্ত্রীর পরিদর্শনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে স্বাস্থ্যসেবার মান সম্পর্কে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় হাসপাতালের সেবা আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্তব্য করুন