বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী জন কডওয়েলের জীবনে পরিবারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর আট সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোটটির বয়স মাত্র দুই বছর, আর সবচেয়ে বড়টির চল্লিশ সাত। কিন্তু ধনী হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর সন্তানদের কখনোই নষ্ট হতে দেননি। নিজের শৈশবের অভাববোধ তাঁকে বুঝিয়েছে যে সন্তানদের প্রতি অতিরিক্ত অনুগ্রহ নয়, বরং তাদের মধ্যে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। তাঁর মতে, সম্পদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্তানদের মনের বিকাশ ও স্বনির্ভরতা।
জন কডওয়েল যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং ফোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ফোনস ফোর ইউ-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর সন্তানদের বয়সের ব্যবধান বিশ বছরেরও বেশি। কিন্তু তিনি তাঁদের জীবনে সবসময়ই উপস্থিত থেকেছেন। ছোটবেলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাজে তাঁর সময় কম থাকলেও তিনি তাঁর সন্তানদের স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন। এমনকি বর্তমানে তিনি তাঁর সন্তানদের স্কুলের সময়সূচি মেনে চলেন, যাতে তাদের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলাবোধ তৈরি হয়। তিনি তাঁর সন্তানদের জন্য কোনো গৃহশিক্ষক রাখেননি, বরং স্কুলের পরিবেশই তাদের জন্য যথেষ্ট।
জন কডওয়েল তাঁর সন্তানদের সাধারণ জীবনের সাথে পরিচিত করতে চান। তাঁদের সাথে তিনি ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ করেন, জারা ও প্রাইমার্ক থেকে পোশাক কেনেন। তাঁদেরকে বিলাসিতা থেকে দূরে রাখার জন্য তিনি সচেতনভাবে পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত ব্যয়বহুল উপহার বা খাবার সন্তানদের মধ্যে অহংকার ও অসন্তুষ্টির জন্ম দেয়। তাঁর পরিবারের ছোট সদস্যরা রেস্তোরাঁয় গেলেও সাধারণ খাবার যেমন চিকেন নাগেটস বা চিপসই খায়। তাঁরা কখনোই লবস্টার বা অন্য কোনো ব্যয়বহুল খাবারের স্বপ্ন দেখেন না।
তাঁর পরিবারের ক্রিসমাস উদযাপনের ধরনেও রয়েছে পরিবর্তন। অতীতে একসাথে অনেক উপহার দেওয়া হলেও এখন তিনি মাত্র দুই-তিনটি উপহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে অতিরিক্ত উপহার সন্তানদের মধ্যে সাময়িক আনন্দ ছাড়া আর কিছুই দেয় না। তাঁর আর্থিক সহায়তা সবসময়ই তাঁর সন্তানদের শিক্ষা ও স্বনির্ভরতার সাথে সম্পর্কিত। তিনি তাদেরকে স্কুলের খরচ বহন করেন, কিন্তু নাইটক্লাব বা ব্যয়বহুল খাবারের জন্য কোনো অর্থ দেন না। তাঁর ছেলেমেয়েরা সবাই নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন। তাঁর এক মেয়ে মনোবিজ্ঞানী, আরেকজন রিয়েল এস্টেটে কাজ করেন। অন্যজন ব্যাংকে চাকরি করছেন। তাঁর এক ছেলে সংগীতশিল্পী, আরেকজন রিয়েল এস্টেটের লাইসেন্স নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জন কডওয়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সন্তানদের প্রতি অবিরাম ভালোবাসা প্রকাশ করা। তিনি তাঁর সন্তানদের শাসন করার পরেও তাঁদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, সন্তানদের শাসন করা উচিত তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। তাঁর লক্ষ্য হলো তাঁর সন্তানরা যেন সুখী হয় এবং এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তোলে। তাঁর মতে, সম্পদের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সন্তানদের মানসিক শান্তি ও স্বনির্ভরতা। তিনি চান তাঁর সন্তানরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং সমাজের জন্য উপকারী হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন