বিশ্বজুড়ে বারগুলোতে মানুষের ভিড় কমছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সেইসব পানীয়ের চাহিদা, যেগুলো নিজেই তৈরি করা যায় অতি সহজে। বার থেকে সরাসরি অর্ডার না করে, ঘরে বসে প্রিমিয়াম ককটেল বানানোর প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। ফলে, বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রেডি-টু-ড্রিংক ককটেল, ক্যানজাত মদ, এমনকি ডিআইওয়াই ইনফিউশন কিট। এসবের মাধ্যমে মানুষ চাইছেন বার-মানের পানীয়, কিন্তু বার যাওয়ার ঝামেলা বা মিক্সোলজির জটিলতা নয়।
বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে পানীয় সংস্কৃতি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সুবিধাজনক এবং মানসম্মত পানীয়ের চাহিদা বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই প্রবণতা আরও বাড়বে। ক্যানজাত মদ এবং রেডি-টু-ড্রিংক ককটেলের বিক্রি তুঙ্গে উঠবে। এমনকি স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোও এই চাহিদা মেটাতে তৈরি করছে নতুন নতুন পণ্য। ফলে, পানীয়ের বাজারে আসছে বিপ্লব।
পরিসংখ্যান বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বার যাওয়ার হার কমছে। বারগুলোতে মানুষ কম যাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু যখন যাচ্ছেন, তখন বেশি খরচ করছেন। এই ফাঁকটা দখল করছে রেডি-টু-ড্রিংক জাত পণ্য। নিলসেনআইকিউ-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বার যাওয়ার হার কমলেও, মানুষের পানীয়ের প্রতি আগ্রহ কমেনি। বরং তারা চাইছেন বার-মানের পানীয়, কিন্তু ঘরে বসেই। ফলে, তৈরি হচ্ছে এমন সব পণ্য, যা সহজেই বাড়িতে তৈরি করা যায়। এমনকি বাজারে আসছে এমন সব কিট, যার মাধ্যমে নিজেই তৈরি করা যায় ভিন্ন স্বাদের ককটেল।
একটি উদাহরণ হলো মার্কিন কোম্পানি ‘অন দ্য রকস’। তারা তৈরি করছে রেডি-টু-ড্রিংক ককটেল, যা সরাসরি ক্যান থেকে খাওয়া যায়। তাদের ব্র্যান্ড ডিরেক্টর ড্যানিয়েল মে বলেন, ‘আমাদের পণ্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন মানুষ সহজেই ঘরে বসে প্রিমিয়াম মানের পানীয় উপভোগ করতে পারেন।’ এই প্রবণতা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বজুড়েই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এই প্রবণতা বেশি জনপ্রিয়। তারা চান সুবিধাজনক পানীয়, যা বহনযোগ্য এবং দ্রুত তৈরি করা যায়।
আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে ‘ইনফিউজ অ্যান্ড বুজ’ নামে একটি ছোট কোম্পানি। তারা বিক্রি করছে এমন সব ইনফিউশন জার, যেগুলোর মধ্যে শুকনো ফল, গুল্ম এবং চিনি থাকে। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের অ্যালকোহল যুক্ত করে তৈরি করতে পারেন ককটেল। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতাদের মতে, তাদের এই ধারণার উৎপত্তি হয়েছে ক্যাম্পিংয়ের সময় থেকে, যখন তারা দেখেছিলেন বাইরে মিশ্রিত পানীয় তৈরি করা বেশ কষ্টসাধ্য। এই জারগুলোতে আট থেকে দশটি ককটেল তৈরি করা যায় এবং ফ্রিজে রাখা যায়। ফলে, অতিথিদের আসার আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা যায় পানীয়।
বড় বড় মদের ব্র্যান্ডগুলোও এই প্রবণতায় সাড়া দিচ্ছে। ব্র্যান্ড যেমন মালিবু, ব্যাকার্ডি, এবং অ্যাবসোলুট তাদের রেডি-টু-ড্রিংক মিশ্রণ দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অ্যাবসোলুট ভোডকার মার্কেটিং ভিপি ক্যারোলিন ব্যাগলি বলেন, ‘তরুণরা এখন ভিন্নভাবে মদ্যপান করছে। তারা চান তাদের পানীয় তাদের জীবনধারার সঙ্গে মানানসই হোক।’ এই প্রবণতা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ এখন চান তাদের পানীয় তাদের জীবনধারাকে প্রতিফলিত করুক। ফলে, পানীয়ের বাজারে আসছে নতুন বিপ্লব।
মন্তব্য করুন