গোটা সাতেক দিনের একটা ভ্রমণে কেবল একটা ব্যাকপ্যাক নিয়েই পাড়ি জমানোর অভিজ্ঞতা বেশ দুর্লভ। সেই বিরল অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারের এক সাংবাদিক। তাঁর সেই যাত্রাপথ ছিল নিউইয়র্ক থেকে পূর্ব কানাডা পর্যন্ত। ট্রেনে চেপে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন নায়াগ্রা জলপ্রপাত, টরন্টো, মন্ট্রিয়াল আর কুইবেক সিটিতে। প্রতিটি জায়গায় তিনি ছিলেন সাত দিনের মধ্যে। তাঁর যাত্রার বিশেষত্ব ছিল তাঁর ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা। পুরো সাত দিন তিনি তাঁর সঙ্গে কেবল একটি মাত্র ব্যাকপ্যাক নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানিয়েছেন যে, ব্যাগেজ হালকা রাখতে গিয়ে তাঁর কিছু জিনিস ভুলে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনের সময় হাত না থাকার ঘটনা ঘটেছে। তবে বেশ কিছু জিনিস তাঁর ভ্রমণকে সহজ করেছে, আবার কিছু জিনিস না থাকায় তাঁকে অসুবিধাতেও পড়তে হয়েছে। তাঁর ব্যাকপ্যাকের আয়তন ছিল মাত্র ৩২ লিটার। তাতে তিনি তাঁর ল্যাপটপ, ক্যামেরা, চার্জার, ট্রাইপড, টুথব্রাশ থেকে শুরু করে ওষুধপত্র পর্যন্ত ভরে নিয়েছিলেন। এমনকি নিজের ব্যবহারের জন্য ব্যাগে ছিল দ্রুত শুকানো যায় এমন পোশাক আর কয়েকটা জামা। তবে তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিল লন্ড্রি শিট। সেগুলো দিয়ে তিনি নিজেই তাঁর পোশাক ধুয়ে ফেলতে পারতেন। তাতেও তাঁর কাপড় শুকাতে বেশ সময় লাগতো। তবে তিনি যে ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি অনুতপ্ত ছিলেন তা হলো সক্সের সংখ্যা। মাত্র পাঁচ জোড়া সক্স সঙ্গে নিয়েছিলেন তিনি, আর সেগুলোই শুকাতে দেরি হয়ে তাঁকে দিনের বেশিরভাগ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তাঁর ব্যাকপ্যাকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ছিল একটি টোট ব্যাগ। যাতায়াতের সময় সেই টোট ব্যাগে তিনি তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতেন। ট্রেন বা বাসে চড়ার সময় তাঁর ব্যাকপ্যাকটিকে ওভারহেড বিনে রাখতে সুবিধা হতো। ফলে তাঁর পা রাখার জায়গাও বেশি পাওয়া যেত। তবে তিনি তাঁর ভ্রমণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটি ভুলে গিয়েছিলেন তা হলো একটি পোর্টেবল চার্জার ব্যাটারি। দীর্ঘ সময় ধরে একাধারে ঘুরতে ঘুরতে তাঁর ফোন প্রায় শেষ হয়ে যেত। একা ভ্রমণের কারণে ফোন চার্জ শেষ হয়ে গেলে বিপদেও পড়তে হতো। তাই তিনি যদি একটি পোর্টেবল চার্জার সঙ্গে নিয়ে যেতেন, তাহলে তাঁর ফোন ব্যবহারে কোনো অসুবিধা হতো না। তাঁর সঙ্গে ছিল একটি মিও নামক প্রোটিন সমৃদ্ধ পানীয়। সেটি তাঁর শক্তি যোগাতে সাহায্য করেছিল। তবে তিনি তাঁর সঙ্গে চা পাতা আনতে পারতেন। হোটেলগুলোতে তো বরাবরই গরম পানির ব্যবস্থা থাকে। তাই তাঁর ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করতে চা পাতা সঙ্গে থাকলে ভালো হতো বলে তিনি মনে করেন।
তিনি তাঁর সঙ্গে একটি রেইনকোটও নিয়েছিলেন। কারণ কানাডার আবহাওয়া তো প্রায়ই বদলে যায়। তাঁর সঙ্গে একটি ওয়াটার বোতলও ছিল। যার ফলে তিনি বারবার প্লাস্টিকের বোতল কিনে পরিবেশকে দূষিত করার হাত থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন। তিনি তাঁর ব্যাকপ্যাক সম্পর্কে বলেছেন যে, ব্যাকপ্যাকের ভেতরের জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখতে তাঁর প্যাকিং কিউব বেশ কাজে এসেছে। তাতে তাঁর পোশাকগুলো অনেকটাই কম জায়গা দখল করেছে। তাঁর ভ্রমণ শেষে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, পরের বার যাওয়ার সময় তিনি আরও বেশি সক্স, পাজামা আর চা পাতা সঙ্গে নেবেন। কারণ তাঁর ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করতে এই তিনটি জিনিসই ছিল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়।
তিনি তাঁর ভ্রমণ সম্পর্কে বলেছেন যে, ব্যাকপ্যাকিং ভ্রমণে অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন আপনাকে কোনো ভারী ব্যাগ টানতে হয় না, আবার যেকোনো মুহূর্তে আপনি যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন। তবে এই ধরনের ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা। না হলে প্রয়োজনের সময় অনেক কিছুই হাতের কাছে পাওয়া যায় না। তাঁর মতো যারা ব্যাকপ্যাকিং করতে চান, তাদের জন্য তাঁর পরামর্শ হলো নিজের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখা। আর সঙ্গে যে জিনিসগুলো প্রয়োজনীয় মনে হয় তা সঙ্গে নিয়ে যাওয়া। কারণ একটা ব্যাকপ্যাক যখন আপনার সবকিছু হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেখানে কিছু ভুলে যাওয়াই স্বাভাবিক। তবে পরের বার থেকে তিনি তাঁর ভুলগুলো সংশোধন করবেন বলে জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন