ওয়াশিংটন — একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী প্রেরণের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে পেন্টাগন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে স্থলবাহিনী মোতায়েনের জন্য নির্দিষ্ট অনুরোধ করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করছেন।
গোপনীয়তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প স্থলবাহিনী ইরানে পাঠানোর বিষয়ে বিবেচনা করছেন। যদিও তিনি বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, “না, আমি কোথাও সেনা প্রেরণ করছি না।” তবে দ্রুতই তিনি যোগ করেন, “যদি করতেও হতো, অবশ্যই তা তোমাদের বলতাম না।” সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তা হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগনের দিকে নির্দেশ করেছেন।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লাভিট এক বিবৃতিতে বলেন, “কমান্ডার ইন চিফকে সর্বোচ্চ সামরিক বিকল্প প্রদানের জন্য পেন্টাগনের প্রস্তুতি গ্রহণ স্বাভাবিক। এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল হোয়াইট হাউজে তিনি যেমন বলেছেন, বর্তমানে তিনি কোথাও স্থলবাহিনী প্রেরণের পরিকল্পনা করছেন না।” তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি বর্তমানে কোথাও সেনা প্রেরণ করবেন না।
যদি প্রেসিডেন্ট স্থলবাহিনী প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে কীভাবে ইরানি সেনা ও আধাসামরিক সদস্যদের আটক করা হবে, সে ব্যাপারেও সেনাবাহিনী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। দুই সূত্র জানিয়েছে, তাদের আটকের স্থান নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্যে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। সেনাবাহিনীর গ্লোবাল রেসপন্স ফোর্স ও মেরিন কর্পসের মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনটি যুদ্ধজাহাজসহ প্রায় ২,২০০ মেরিন সদস্য ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে বলে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় মেরিন ইউনিট প্রেরণ, এবং এটি স্থাপিত হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। প্রথম ইউনিটটি প্রশান্ত মহাসাগর থেকে প্রেরণ করা হয়েছিল এবং এটি এখনও অঞ্চলে পৌঁছেনি।
এই পদক্ষেপগুলো প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্প প্রসারিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জনসমক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই প্রচেষ্টা ইরান সংঘাতের মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন