মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার ব্রিওনা টেলর নামে এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত দুই প্রাক্তন লুইভিল পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাটি স্থায়ীভাবে তুলে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসারে, লুইভিল শহরের দুই প্রাক্তন পুলিশ অফিসার জশুয়া জয়েস এবং কাইল মেনির বিরুদ্ধে বর্তমান মামলাটি স্থায়ীভাবে বাতিল করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এর অর্থ হলো ভবিষ্যতেও এই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়। আদালত এখনো এই আবেদনের উপর চূড়ান্ত রায় দেননি।
এর আগে ২০২০ সালের মার্চ মাসে ব্রিওনা টেলর নামে এক মহিলাকে তার নিজ বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালানোর সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর দুই প্রাক্তন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছিল। অভিযোগ ছিল যে তারা ব্রিওনা টেলরের চতুর্থ সংশোধনী অধিকার – অর্থাৎ অবৈধভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার – লঙ্ঘন করেছিলেন। তবে, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালে দুই বার আদালত যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দেওয়া গুরুতর অভিযোগগুলিকে খারিজ করে দিয়ে তাকে সাধারণ মামলায় রূপান্তরিত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দুই প্রাক্তন অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তারা ব্রিওনা টেলরের মৃত্যুতে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন। তবে আদালতের রায়ে অভিযোগগুলি সাধারণ মামলায় পরিণত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আর গুরুতর শাস্তির সম্ভাবনা থাকছে না। এই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতন ও অবৈধ অভিযানের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আলোচনা শুরু হয়েছিল।
ব্রিওনা টেলরের পরিবারের আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন যে বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপে ন্যায়বিচারের পথ আরও সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে অভিযুক্ত দুই প্রাক্তন অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা আর কার্যকর হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি বর্বরতা ও অবৈধ অভিযানের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আলোচনা শুরু হয়েছিল। ব্রিওনা টেলরের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন