যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই-এর হেফাজতে থাকা গর্ভবতী নারীদের অবস্থা ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। কয়েকজন নারী সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তাদের হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছে, এমনকি তারা গর্ভবতী অবস্থায়ও। এই ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত নিয়মকানুনকেও লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই নারীদের মতে, আইসিই-এর হেফাজতে থাকাকালীন তাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে না। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। একজন নারী জানিয়েছেন, তিনি যখন গর্ভাবস্থার শেষ দিকে ছিলেন, তখনও তাকে হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়েছিল। এটি স্বাভাবিক নিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’-এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, “গর্ভবতী নারীদের হাতকড়া পরিয়ে রাখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। এটি তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে অবিলম্বে এই নীতির পরিবর্তন করতে হবে।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। গত কয়েক মাসে অভিবাসী শিবিরগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের প্রতি এই ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অমানবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিই-এর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি এমন আচরণ দেশের আইনি কাঠামোর মধ্যেও অসঙ্গতিপূর্ণ। গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। এর ফলে অনেক গর্ভবতী নারীই গর্ভপাতের মতো জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই বিষয়ে আইসিই-এর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তারা দাবি করছেন, গর্ভবতী নারীদের প্রতি এমন আচরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং তাদের যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
মন্তব্য করুন