যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান ‘আর্টেমিস ২’-এর জন্য প্রস্তুতি আবারও শুরু হয়েছে। মেরামত করা মহাকাশযানটি বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে ধীরে ধীরে কেনেডি স্পেস সেন্টারের ‘ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং’ থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। প্রায় চার মাইল দূরের লঞ্চ প্যাড ৩৯বি-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে ৩৩২ ফুট লম্বা এই মহাকাশযানটি। পুরো যাত্রাটি সম্পন্ন হতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে নাসা।
আর্টেমিস ২ অভিযানে চারজন মহাকাশচারী চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এই অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন কমান্ডার রেইড উইজম্যান, যিনি এর আগেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। মহাকাশচারীরা ইতোমধ্যেই প্রি-ফ্লাইট মেডিকেল কোয়রেন্টিনে রয়েছেন এবং আগামী সপ্তাহে তাঁরা কেনেডি স্পেস সেন্টারে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই অভিযানটি হবে চাঁদের উদ্দেশ্যে মানুষ বহনকারী প্রথম মহাকাশযান, যা ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো অভিযানের পর। যদিও এই মহাকাশযানটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করবে না, তবে এটি পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাত্রা করবে মানুষ বহনকারী কোনো যান হিসেবে। অভিযানটি সফল হলে পরবর্তী বছরে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করবে নাসা, যেখানে চাঁদের অবতরণকারী মহাকাশযানগুলির সঙ্গে মহাকাশে মিলন ও ডকিং পরীক্ষা করা হবে।
এই অভিযানটি প্রাথমিকভাবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে পরিচালনার কথা ছিল, তবে জ্বালানি লিকেজের কারণে তা পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে কয়েক দফা পরীক্ষা ও মেরামতের পর মহাকাশযানটিকে আবারও উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবী ও চাঁদের অবস্থানের কারণে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্তই এই অভিযান পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। তারপর পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে আরও তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
মহাকাশযানটির উৎক্ষেপণ সফল হলে তা হবে মানব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের পুনরায় পদার্পণের পথ উন্মুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাসা ইতোমধ্যেই চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে এবং আর্টেমিস অভিযান তারই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন