এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাশন বিপণন এবং মার্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নুয়ালা ও’হ্যানিয়ন। প্রিমার্কের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে তার ক্যারিয়ার ছিল গতিশীল ও সফল। কিন্তু বছর দুয়েক ধরে তার মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন বারবার উঁকি দিতে থাকে — ‘এটা কি আমার জন্য যথেষ্ট?’ কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিলেও তার মন অন্য দিকে টানছিল। পাইলেটিসের প্রতি তার ছিল গভীর ভালোবাসা। কলেজে থাকাকালীনই ভিজ্যুয়াল মার্কেটিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাইলেটিস তাকে এতটাই আচ্ছন্ন করে ফেলে যে, তিনি নিজেকে আর সেই চাকরিতে আবদ্ধ রাখতে পারছিলেন না।
২০২৩ সালের জুন মাসে তিনি প্রিমার্কের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। তারপর প্রশিক্ষণ নিয়ে পাইলেটিস ইন্সট্রাক্টর হন। নিজের সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে তিনি রওনা দেন এশিয়া ভ্রমণে। শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, চীন, কোরিয়া আর ইন্দোনেশিয়া — একের পর এক দেশ ভ্রমণ করতে থাকেন তিনি। সমুদ্র সৈকতে অবসর কাটানো ছাড়াও তিনি পাহাড়ে হাঁটলেন, চা বাগানে কাজ করলেন, আর বিশাল বিশাল ঢেউয়ে সার্ফিং শিখলেন। প্রতিটি অভিজ্ঞতা তাকে শেখালো নতুন কিছু করার সাহস।
চীন ভ্রমণের সময় তিনি দেখেছিলেন বিশাল চা বাগান, আর কোরিয়ায় গিয়ে তাকে চমকে দিয়েছিল ফ্যাশন বিপণনের বিশাল আয়োজন — বিশাল পপ-আপ স্টোর আর ব্র্যান্ড ইভেন্ট। এই সবই আবার তাকে ফ্যাশন আর মার্কেটিংয়ের প্রতি তার ভালোবাসা ফিরিয়ে এনেছিল। প্রতিটি দেশেই তিনি স্থানীয় পাইলেটিস ক্লাসে যোগ দিতেন, সেখানকার স্টুডিওর ব্যবসায়িক মডেল পর্যবেক্ষণ করতেন। তার ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল নিজের প্রতি বিশ্বাস আর সাহস। তিনি বুঝতে পারলেন যে, যদি সব কিছু গোলমাল হয়ে যায়, তাহলে সেটা জীবনের শেষ নয়। তিনি নতুন কিছু শুরু করতে পারবেন।
ডিসেম্বর মাসে তিনি ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সার্ফ ক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে বিশাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে তিনি নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুললেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে, জীবনের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার ক্ষমতা তার রয়েছে। দেশে ফিরে আসার পর তিনি ডাবলিনে নিজের পাইলেটিস ক্লাস শুরু করেন। সেই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ফ্যাশন বিপণনেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। যদিও তার আয় আগের চাকরির তুলনায় কম, তবুও তিনি এই পরিবর্তনে খুশি। তিনি বলেন, ‘আমি এখন জীবনের দুটো দিকই উপভোগ করছি। পদোন্নতি নয়, নিজের পছন্দের কাজ আর জীবনের ভারসাম্যই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
তার অভিজ্ঞতা থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো যে, তিনি আসলে কর্পোরেট জীবন থেকে পালিয়ে আসেননি। তিনি এখনও ফ্যাশন আর মার্কেটিংকে ভালোবাসেন। যদি কোনো দিন তাকে আবার চাকরিতে ফিরতে হয়, তাহলে তিনি খুশি মনে তা করবেন — তবে সঙ্গে থাকবে পাইলেটিসের চর্চাও। একা একা চার মাস ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা তাকে এমন এক মানসিক বল দিয়েছে যে তিনি এখন বলেন, ‘আমি এটা করেছি, তাই আমি যেকোনো কিছুই করতে পারি।’
মন্তব্য করুন