বয়স তো আর কারও কাছে থামার নাম নয়। নিজের জীবনেই তার প্রমাণ রেখেছেন সিঙ্গাপুরের নগ বিম কিয়া। ৮০ বছর বয়সেও তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন। অবসর জীবনে প্রথমে একঘেয়েমি তাকে গ্রাস করেছিল। কিন্তু নিজেকে ব্যস্ত রাখতে আবার শুরু করলেন ব্যায়াম। এক সময় জাতীয় স্তরের ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়ন ছিলেন তিনি। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছেন।
নিজের দৈনন্দিন জীবনের কথা বলতে গিয়ে নগ বিম কিয়া জানান, তিনি প্রতিদিন সকালে ও বিকালে ব্যায়াম করেন। ব্রেকফাস্টে থাকে ওটমিল এবং গরম দুধ। ধূমপান বা মদ্যপান একেবারেই করেন না। কর্মজীবনে সিগারেটের পাইকারির ব্যবসা করলেও নিজে কখনও ধূমপান শুরু করেননি। স্ত্রীর সাথে ৪০ বছর ধরে সুখী দাম্পত্য জীবন যাপন করছেন। এখন নিজেদের মতো করে সংসার চালান। কিছুদিন আগেও ছেলের সাথে থাকলেও এখন নিজেদের আলাদা বাসা।
১৯৭১ সালে সিঙ্গাপুরের হয়ে সাউথইস্ট এশিয়ান পেনিনসুলার গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন নগ বিম কিয়া। পরের আসর ১৯৭৩ সালে যখন সিঙ্গাপুরেই অনুষ্ঠিত হয়, তখন রজত পদক লাভ করেন। ভারোত্তোলন জীবনে এই সাফল্য তাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছিল। কিন্তু বিবাহ জীবনে প্রবেশের পর কিছুটা সময় ব্যায়াম থেকে দূরে থাকেন। অবসর জীবনে আবার ব্যায়াম শুরু করেন। প্রথমে নিজের সুস্থতার জন্য শুরু করলেও পরে স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারের জিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
কমিউনিটি জিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার সময় তার সাথে পরিচয় হয় আরও কয়েকজনের। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করতেন, তাদের নিয়ে তারা গঠন করেন ‘টিম স্ট্রং সিলভার্স’ নামে একটি দল। এই দলটির সদস্যরা প্রবীণদের ব্যায়ামের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াচ্ছেন। নগ বিম কিয়া এই দলের অন্যতম মুখ্য সদস্য। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং অন্যদেরও নির্দেশনা দেন।
বয়সের ভারে তার শরীরেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। দুই বছর আগে তিনি মেরুদণ্ডের স্থিতিশীলতার জন্য অস্ত্রোপচার করান। পরে হাঁটু প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচারও হয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি হাঁটার জন্য একটি ক্যান ব্যবহার করেন। তবে ব্যায়াম থামাননি। শরীরের উপরের অংশের ব্যায়ামে মনোযোগী তিনি। হালকা ওজনের ডাম্বেল ব্যবহার করে নিয়মিত অনুশীলন করেন। তার বিশ্বাস, বয়স কোনও বাধা নয়। সাধ্যমতো নিজেকে সক্রিয় রাখা উচিত।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকেই মনে করি, বয়স হলে আর ব্যায়াম করা যায় না। কিন্তু এটা সত্য নয়। সব ধরনের ব্যায়াম করতে না পারলেও মৌলিক কিছু ব্যায়াম করা যায়। নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। যদি পারি, তাহলে অবশ্যই করব।’ তার এই জীবনদর্শন অনেককেই অনুপ্রাণিত করেছে।
মন্তব্য করুন