এ বছরের শুরু থেকেই গৃহঋণের সুদের হার কমার সম্ভাবনা নিয়ে অনেক ক্রেতাই স্বপ্ন দেখেছিলেন। গত এক বছরে গড় সুদের হার প্রায় এক শতাংশ কমেছে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। কিন্তু ফেডারেল রিজার্ভ এই সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে কোনো বৈঠক না হওয়া এবং মার্চেও হার স্থগিত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে গৃহঋণের সুদের হার স্থিতিশীল হয়ে আছে। মূল্যস্ফীতি থমকে দাঁড়ানো, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এখন সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের উচিত নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ভাবা।
ফেডের এই স্থগিতাদেশের পর গৃহঋণ নেওয়ার আগে ক্রেতাদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা উচিত। প্রথমত, সুদের হার আবার বাড়তে পারে কি না তা খতিয়ে দেখা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ফেড বৈঠক না হওয়া সত্ত্বেও সুদের হার সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তাহলে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ক্রেতাদের উচিত আগেভাগে সুদের হার লক করে রাখা, যাতে অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়।
দ্বিতীয়ত, এ বছরের শেষদিকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কতটা আছে তা বিবেচনা করা। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ৮০ শতাংশের বেশি। ফলে বসন্তকালে ক্রেতাদের বর্তমান সুদের হারই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে ভালো অফার হিসেবে গ্রহণ করতে হতে পারে। যদিও অনেক ক্রেতাই এটা মানতে চাইবেন না, কিন্তু এটাই বাস্তব। এর ফলে তারা আরও সঠিকভাবে বাজেট পরিকল্পনা করতে পারবেন।
তৃতীয়ত, সামান্য সুদের হার কমানোর প্রভাব কতটা কার্যকর হবে তা মূল্যায়ন করা। এমনকি যদি ফেড পরবর্তী সময়ে সুদের হার কমায়ও, তা সম্ভবত মাত্র ০.২৫ শতাংশ কমবে—যা গত বছরের মতোই। বর্তমান উচ্চ সুদের হার থেকে আবার নিম্ন স্তরে ফিরতে অনেক দিন লেগে যেতে পারে। তাই ক্রেতাদের উচিত সুদের হার কমার প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখা।
সবশেষে, ক্রেতাদের স্বপ্নের বাড়িটি হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকির কথা বিবেচনা করতে হবে। যখন সুদের হার খুব একটা ভালো থাকে না, তখন ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয় যে তারা যেন প্রথমে বাড়িটি বেছে নেন, পরে সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করেন। বসন্তকালে আবাসন বাজারে নতুন জোগান আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যদি সাধ্যের মধ্যে বর্তমান সুদের হার বহন করা যায়, তবে বিলম্ব না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে সুদের হার কমলে সবসময় রিফাইন্যান্স করার সুযোগ থাকবে।
ফেডের এই স্থগিতাদেশ গৃহক্রেতাদের জন্য আদর্শ নয়, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারা হাল ছেড়ে দেবেন। উপরের চারটি বিষয় বিবেচনা করে নিজেদের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে। এমনকি প্রতিকূল সুদের হার পরিস্থিতিতেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতারা নিজেদের স্বপ্নের বাড়িটি খুঁজে পেতে পারেন।
মন্তব্য করুন