যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি পশু আশ্রয়ে হঠাৎ করেই বিশ্রীভাবে দুলতে থাকা একটি কুকুরের খোঁজ মিলেছিল। তার অবস্থা দেখে সন্দেহ হওয়ায় কর্মীরা তাকে ড্রাগ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিস্ময়কর ফলাফলে জানা যায়, কুকুরটির শরীরে কোকেনের উপস্থিতি রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রিচমন্ড অ্যানিম্যাল কেয়ার অ্যান্ড কন্ট্রোল (আরএসিসি) নামক একটি পশু কল্যাণ সংস্থায়।
সংস্থাটির পরিচালক ক্রিস্টি চিপস পিটারস জানান, টেলিফোনে কুকুরটির অস্বাভাবিক চলাফেরার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে সংস্থাটির কর্মীরা গিয়ে দেখেন কুকুরটি বমি করছে এবং তার মালিক কে তা কেউ জানাতে পারছে না। অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখে তিনি মনে করেন কুকুরটি হয়তো গাঁজা খেয়েছে। তবে পরবর্তীতে পরীক্ষায় ধরা পড়ে তার শরীরে কোকেনের প্রভাব রয়েছে। ঘটনাটি এতটাই অদ্ভুত ছিল যে তিনি নিজেই অবাক হন।
কুকুরটির অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিশেষ যত্নে রাখা হয়। তাকে গোসল করিয়ে শরীর থেকে অবশিষ্ট মাদক সরিয়ে ফেলা হয় এবং ধীরে ধীরে তার সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। সংস্থার কর্মীরা তাকে ‘আই এম হ্যাপি টু বি হিয়ার’ নামে ডাকতে শুরু করেন। পিটারস বলেন, এর আগেও কুকুরের শরীরে মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়েছিল, তবে কোকেনের ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর এমন ঘটনা ঘটল।
কুকুরটি কীভাবে মাদক গ্রহণ করেছিল সে সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা রয়েছে। পিটারস বলেন, হয়তো সে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর সময় অন্য কোনো উৎস থেকে মাদকে আক্রান্ত হয়েছিল। উল্লেখ্য, কুকুরটির বমির সঙ্গে ব্রোকলি ও গাজরের টুকরোও পাওয়া যায়, যা থেকে বোঝা যায় সে স্বাভাবিক খাবারও খাচ্ছিল।
যদিও ঘটনাটি বিরল, সংস্থাটি কুকুরটির যত্ন নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং সে আশ্রয়ে বেশ স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছে। পিটারস জানান, কুকুরটি খুবই সুন্দর এবং তার নামের মধ্যেই তার মনোভাব প্রকাশ পায়। সংস্থাটি তার ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে জানিয়েছে, যে তাকে চিনতে পারে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কুকুরটির গল্পটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ব্যাপারটিকে হাস্যকরভাবে নিয়েছেন। একজন লিখেছেন, ‘আপনি কি তার জন্য জনসাধারণের সামনে মাতাল হওয়ার অভিযোগ পত্র লিখেছেন?’ অন্যজন লিখেছেন, ‘কুকুরটি প্রচণ্ড নেশাগ্রস্ত ছিল।’ তবে অনেকেই কুকুরটির দুর্দশা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘দয়া করে নিশ্চিত করুন যে কুকুরটির সঠিক যত্ন নেওয়া হচ্ছে। কী ভয়াবহ অভিজ্ঞতা! খুশি যে সে ঠিক হয়ে যাচ্ছে।’
বর্তমানে কুকুরটি পথের কুকুর হিসেবে পরিচিত হলেও পরবর্তীতে তাকে দত্তক দেওয়া হবে। যারা তাকে দত্তক নিতে আগ্রহী তারা ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন: christy.hensworth@rva.gov। যদিও কুকুরটির ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই স্বাভাবিকের দিকে, তবে এরকম ঘটনা বিরল নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে কুকুরদের মাদক গ্রহণের ঘটনা কতটা সাধারণ? জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনের একটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৪৩৩টি কুকুর ও ৬৩টি বিড়াল কোকেন বা মেথামফেটামিনের সংস্পর্শে এসেছিল। এর মধ্যে কোকেনের সংস্পর্শে আসা কুকুরের সংখ্যা ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাসপিসিএর অ্যানিম্যাল পয়জন কন্ট্রোল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাদক বা গাঁজাজাতীয় দ্রব্য কুকুরদের ক্ষেত্রে মোট বিষক্রিয়ার প্রায় ২.১ শতাংশ দায়ী ছিল। এই কেন্দ্রটি ২০২৪ সালে মোট চার লাখ ৫১ হাজারেরও বেশি কল পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় নয় হাজার ৫০০টির সঙ্গে মাদকের সম্পর্ক ছিল।
মন্তব্য করুন