প্রযুক্তির দুনিয়ায় এখন উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জগতে। সম্প্রতি এমন কিছু এআই এজেন্ট উঠে এসেছে যারা ম্যাকিনজি কিংবা অন্যান্য নামকরা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আদলেই কাজ করতে পারে। এসব এআই ‘কনসালট্যান্ট’দের মূল কাজ হলো ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা, বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন তৈরি করা এবং স্লাইড ডেক তৈরির মতো কাজগুলো করা। এমনকি ভেরসেল নামে একটি এআই স্টার্টআপ তাদের ‘স্কিলস’ লাইব্রেরিতে এ ধরনের পরামর্শক-শৈলীর এআই স্কিলও যুক্ত করেছে, যা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ভেরসেলের লাইব্রেরিতে থাকা ‘ম্যাকিনজি-কনসালট্যান্ট’ নামক একটি স্কিল গত জানুয়ারি মাসে আপলোড করা হয় এবং ইতোমধ্যেই সপ্তাহে গড়ে ৪৪৫ বার ইনস্টল করা হচ্ছে। এটি মূলত একটি প্রম্পট ফ্রেমওয়ার্ক, যা ক্লড নামক এআই মডেলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবসায়িক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, অনুমান তৈরি, কাঠামোগত বিশ্লেষণ এবং স্লাইড তৈরির মতো কাজগুলোতে সাহায্য করে। তবে এসব এআই পরামর্শকের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষত, প্রকৃত ম্যাকিনজি পরামর্শকেরা যে ধরনের গভীর বিশ্লেষণ এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান করেন, এই এআইগুলোতে তার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন ম্যাকিনজি কর্মী অরবিন্দ বসুদেবন।
এছাড়া, প্রোম্পটকিউএল নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান তাদের এআই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টমাইজড এআই বিশ্লেষক তৈরিতে সাহায্য করছে। তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য এবং এআই মডেলগুলোর সমন্বয় ঘটিয়ে এমন বিশ্লেষক তৈরি করা হয়, যারা সময়ের সাথে সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব এআই পরামর্শকের মূল সমস্যা হলো তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতার অভাব। কারণ প্রকৃত পরামর্শকেরা যেমন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জ্ঞান অর্জন করেন, সেই দক্ষতা এখনও এআইতে পুরোপুরি বিকশিত হয়নি।
ফলে দেখা যাচ্ছে, এআই পরামর্শকেরা ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরিতে কিছুটা সাহায্য করতে পারলেও, গভীর চিন্তাভাবনা এবং প্রতিষ্ঠান-নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট বিবেচনার ক্ষেত্রে তারা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তাই এসব এআই পরামর্শকদের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এআই ভবিষ্যতে আরও উন্নত হতে পারে, তবে বর্তমান অবস্থায় তারা প্রকৃত পরামর্শকের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারবে না। অন্যদিকে, অনেক প্রতিষ্ঠানই এসব এআই পরামর্শকদের ব্যবহার করে ইতোমধ্যেই মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করছে। তাই প্রযুক্তির এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক জগতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে আপনার মতামত কী? জানাতে পারেন ইমেইলে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এছাড়া, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এআই পরামর্শকদের ব্যবহার করে থাকে, তাহলে তাদের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করতে পারেন।
মন্তব্য করুন