হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সারা মিশেল গেলার তাঁর দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের রহস্যের কথা জানালেন। তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী বিবাহের পেছনে রয়েছে এক ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা। সারা মিশেল গেলার ও ফ্রেডি প্রিনজ জুনিয়র প্রায় ২৩ বছর ধরে বিবাহিত জীবন অতিবাহিত করেছেন। তাঁরা প্রথমবার সাক্ষাৎ করেছিলেন ‘আই নো হোয়াট ইউ ডিড লাস্ট সামার’ চলচ্চিত্রের সেটে। কিন্তু বিবাহিত জীবনের দীর্ঘ পথ চলার রহস্য কী? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁদের বাড়িতে রয়েছে একটি বিশেষ ব্যবস্থা যা তাঁদের বিবাহ জীবনে শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
সারা মিশেল গেলারের মতে, তাঁদের বাড়িতে রয়েছে একটি ঘরে দুইটি বাথরুম। তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘরে দুটি বাথরুম থাকায় অনেক ছোটখাটো বিবাদের সমাধান হয়ে যায়। আপনি যদি খুব বেশি বিলাসিতা করতে না পারেন, তবে অন্তত আরেকটি বাথরুম থাকলেই চলবে।’ তিনি আরও জানান, তাঁদের বিবাহ জীবনে সাফল্যের আরেকটি কারণ হল তাঁদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে স্পষ্ট সীমানা বজায় রাখা। তিনি বলেন, ‘আমি দুজন মানুষ: এক হলেন সারা মিশেল গেলার, আরেকজন হলেন সারা প্রিনজ। তাঁরা দুজন আলাদা।’
২০০২ সালে বিবাহিত হওয়ার পর থেকে সারা মিশেল গেলার ও ফ্রেডি প্রিনজ জুনিয়র তাঁদের জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। সারা মিশেল গেলার বলেন, বিবাহিত জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সমাজে এখন অনেক কিছুই সহজেই ফেলে দেওয়া যায়। আগে মানুষ টিভি মেরামত করত, কিন্তু এখন সহজেই নতুন টিভি কিনে ফেলা হয়। তেমনি সম্পর্কগুলোও যদি সহজেই ভেঙে ফেলার প্রবণতা থাকে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।’
সারা মিশেল গেলার আরও বলেন, বিবাহিত জীবনে ব্যক্তিগত জায়গা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা ব্যক্তিগত রাখা উচিত। এমনকি আলাদা ক্রেডিট কার্ড থাকাও দরকার হতে পারে। যেমন ধরুন, যদি আপনার স্বামী গেমিং কার্ড ব্যবহার করেন, তবে তা আলাদা রাখলে আপনি তাঁর খরচ সম্পর্কে জানতে পারবেন না।’ তিনি আরও বলেন, বিবাহিত জীবনে সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আপনাকে সময় বের করতে হবে, প্রচেষ্টা করতে হবে।’
সারা মিশেল গেলারের এই উপদেশ শুধু বিবাহিত দম্পতিদের জন্যই নয়, বরং সব ধরনের সম্পর্কের জন্যই প্রযোজ্য। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জিনিসের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখলে তা সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।’ তাঁর এই উপদেশ ইতিমধ্যেই অনেক দম্পতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। যেমন কারসন ডেলি তাঁর বিবাহ জীবনে আলাদা শয়নকক্ষকে ‘বিবাহের শ্রেষ্ঠ উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে বারবারা করকোরান বলেন, তাঁর স্বামীর প্রতি ভালবাসা দ্বিগুণ হয়েছে তাঁদের আলাদা শয়নকক্ষ থাকায়।
মন্তব্য করুন