ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজ বুধবার আবহাওয়ার বিরূপ আচরণে কালবৈশাখীর ব্যাপক প্রভাব দেখা গেছে। বিকেল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হতে শুরু করলেও সন্ধ্যার পর থেকে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রবিদ্যুৎ ও মুষলধারে বৃষ্টির প্রভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীতে তিন ঘণ্টায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে কয়েকটি এলাকায় শিলাবৃষ্টিও দেখা গিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তিন দিন ধরে রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা। বিকেল থেকেই ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে। সন্ধ্যা ছয়টার পর থেকে হাওয়া ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকে। সাতটার পর থেকে বজ্রপাতের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানান, ঢাকায় সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কালবৈশাখীর সময় এমন বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া স্বাভাবিক। এটি আবহাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’
তবে এই কালবৈশাখীর প্রভাব রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি মাসে একাধিক কালবৈশাখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দু-একটি তীব্র ঝড়ও হতে পারে।
বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ধুলাবালি উড়তে শুরু করে। পরিবহনেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। তবে জনজীবনে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হঠাৎ এমন আবহাওয়ার পরিবর্তন তাদেরকে প্রস্তুত হতে দেয়নি। অনেকেই বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা সঙ্গে রাখেননি। ফলে অনেকে ভিজে গিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই ধরনের আবহাওয়ার পরিবর্তন মৌসুমি বৈচিত্র্যের অংশ। সাধারণত মার্চের শেষ দিকে এমন কালবৈশাখীর প্রভাব দেখা যায়। তবে এবারের মতো তীব্রতা আগামী কয়েক দিনেও দেখা যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। জনসাধারণকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কালবৈশাখীর কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বৃষ্টির কারণে তা কিছুটা কমে এসেছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার আরও পরিবর্তন ঘটতে পারে।
জনজীবনে সাময়িক বিপর্যয় ঘটলেও কালবৈশাখী প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই হয়ে থাকে। তবে এর প্রভাবে কৃষিক্ষেত্রে কিছুটা সুফল পাওয়া যেতে পারে বলে কৃষিবিদরা মনে করছেন। বৃষ্টির কারণে মাটিতে রস সৃষ্টি হবে, যা পরবর্তী ফসল উৎপাদনের জন্য সহায়ক হবে। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টি যেন কোনো ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
মন্তব্য করুন