আমেরিকার বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। আর সেই ভোগান্তির মধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘মাইটিএসএ’ নামের একটি অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে অপেক্ষার সময়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই মুহূর্তে এই অ্যাপটির উপর নির্ভর করা একেবারে ভুল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্থগিত অবস্থার কারণে অ্যাপটির তথ্য আর নির্ভুল নয়।
গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সরকারি স্থগিত অবস্থার কারণে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। ফলে টিএসএ কর্মীদের বেতন প্রদান বন্ধ। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যেই ৩০০-এর বেশি টিএসএ কর্মী চাকরি ছেড়েছেন, আর অনেকে কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন। এর ফলে বিমানবন্দরগুলিতে কর্মী সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। আর এই পরিস্থিতিতে যাত্রীরা তাদের লাইনে দাঁড়ানোর সময় সম্পর্কে ধারণা পেতে ‘মাইটিএসএ’ অ্যাপের দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু অ্যাপটির তথ্য এখন পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়।
বিমান ভ্রমণ বিশ্লেষক স্যালি ফ্রেঞ্চ বলেন, ‘এই অ্যাপটি সাধারণত যাত্রীদের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের অপেক্ষার সময় দেখায়। কিন্তু সরকারি স্থগিত অবস্থার কারণে অ্যাপটির তথ্য আর সঠিকভাবে আপডেট হচ্ছে না। তাই এই মুহূর্তে অ্যাপটির উপর নির্ভর করা মোটেও উচিত নয়।’ অ্যাপটির প্রধান স্ক্রিনেই একটি লাল বার্তা দেখা যায়, যেখানে লেখা থাকে ‘ফেডারেল অর্থায়নের অভাবের কারণে এই ওয়েবসাইটটি সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।’ কিন্তু তারপরেও হতাশ যাত্রীরা অ্যাপটির উপর ভরসা করছেন।
অ্যাপটোপিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ‘মাইটিএসএ’ অ্যাপটি ২০১০ সালের জুন মাসে চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৮৬ লক্ষ বার ডাউনলোড হয়েছে। এর মধ্যে গত ছয় মাসেই হয়েছে প্রায় ১৭ লক্ষ বার। গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে অ্যাপটির ডাউনলোড সংখ্যায় একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, যা শেষ সরকারি স্থগিত অবস্থার শেষের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। কিন্তু গত ৯ মার্চ থেকে আবারও অ্যাপটির ডাউনলোড সংখ্যায় আকাশছোঁয়া বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। অ্যাপটোপিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত নয় দিনে এই অ্যাপটি মার্কিন অ্যাপ স্টোরের শীর্ষ ভ্রমণ অ্যাপে পরিণত হয়েছে। গত ১০ মার্চ অ্যাপটির সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং ছিল পঞ্চম স্থান। আর গত ১১ মার্চ সর্বোচ্চ ডাউনলোড হয়েছিল, যেখানে একদিনেই ইনস্টল হয়েছিল প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার বার।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কর্মী সংকট তীব্র। হিউস্টনের উইলিয়াম পি. হবি বিমানবন্দরে মঙ্গলবার প্রায় ৪০ শতাংশ টিএসএ কর্মী অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে নিউ অর্লিন্সের লুইস আর্মস্ট্রং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩৬ শতাংশ কর্মী। এই অবস্থায় যাত্রীদের উচিত হবে বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের দিকে মনোযোগ দেওয়া, যেখানে কিছু বিমানবন্দর নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের অপেক্ষার সময় সম্পর্কে আপডেট প্রদান করছে।
বর্তমানে এই অ্যাপটির জনপ্রিয়তা তার নির্ভরযোগ্যতা নয়, বরং বিমানবন্দরে যাত্রীদের অনিশ্চয়তার কথাই বেশি প্রকাশ করছে। তাই যাত্রীদের উচিত হবে অ্যাপটির উপর পুরোপুরি নির্ভর না হয়ে বিমানবন্দরের অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। অন্যথায় ভ্রমণের সময় অপ্রত্যাশিত বিপত্তির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।
মন্তব্য করুন