গোটা বিশ্বের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বছরের পর বছর ধরে আনন্দের খোরাক জোগাচ্ছে ডিজনি। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী সাত বছরের মধ্যে ডিজনির মোট ৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে চলেছে। এই বিশাল তালিকায় রয়েছে মার্ভেল ইউনিভার্স, স্টার ওয়ার্স, পিক্সারের কালজয়ী সব সিরিজের নতুন অংশ, এমনকি জনপ্রিয় টিভি শো অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রও।
২০২৬ সালেই একসঙ্গে একাধিক বড় ছবি আসছে ডিজনি থেকে। তার মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’, ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা ২’, ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রুগু’ ইত্যাদি। আবার পিক্সারের নতুন অ্যানিমেশন ‘হপার্স’ দর্শকদের মুগ্ধ করবে কথাসাহিত্যিক ড্যানিয়েল চং-এর পরিচালনায়। এ ছাড়া ২০২৭ সালে ‘আইস এজ ৬’, ‘স্টার ওয়ার্স: স্টারফাইটার’, ‘ব্লুই: দ্য মুভি’ এবং ‘ফ্রোজেন ৩’-এর মতো দর্শকপ্রিয় সব চলচ্চিত্র মুক্তি পাবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০৩১ সাল পর্যন্ত ডিজনির প্রায় চল্লিশটির বেশি চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘অ্যাভাটার ৪’, ‘অ্যাভাটার ৫’, এমনকি ‘ইনক্রেডিবলস ৩’ও।
ডিজনির এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তাদের বিনোদন জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে মার্ভেল ইউনিভার্সের নতুন অংশগুলি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে স্টার ওয়ার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন চলচ্চিত্রগুলি যেমন ‘স্টার ওয়ার্স: স্টারফাইটার’ দর্শকদের নিয়ে যাবে সেই গ্যালাক্সিতে যেখানে রয়েছে যুদ্ধবাজ স্টারফাইটার পাইলটরা।
এ ছাড়া জনপ্রিয় সব চরিত্রের পুনর্জন্মও দেখা যাবে এই চলচ্চিত্রগুলিতে। যেমন ‘দ্য ডেভিল ওয়্যার্স প্রাডা ২’-এ ফিরছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে এবং মেরিল স্ট্রিপ। অন্যদিকে ‘মোয়ানা ২’-এ ডোয়েন জনসনের চরিত্র মাউই-কে দেখা যাবে নতুন রূপে। এমনকি ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ ২’ নামে নতুন একটি চলচ্চিত্রও আসছে, যা ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ডিজনির এই সব চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনেরই নয়, একই সঙ্গে ব্যবসায়িক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘জুটোপিয়া ২’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলি ইতিমধ্যেই একশো কোটি ডলারের ব্যবসা করেছে। আগামী দিনে ডিজনির এই সব চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড তৈরি করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ফলে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য আগামী বছরগুলি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক হতে চলেছে।
পিক্সারের নতুন চলচ্চিত্র ‘হপার্স’ নিয়ে বিশেষ আলোচনা চলছে। এই চলচ্চিত্রে একটি তরুণী মাবেল নিজের চেতনাকে একটি রোবট বিভারের মধ্যে স্থানান্তরিত করে প্রাণীকূলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। জন হ্যাম এবং ববি মইনিহানও এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। অন্যদিকে ‘গাট্টো’ নামে পিক্সারের আরেকটি চলচ্চিত্র আসছে, যেখানে দেখা যাবে ভেনিসের রাস্তায় বিচরণরত একটি কালো বিড়ালের গল্প।
এর বাইরেও ডিজনির অনেকগুলি চলচ্চিত্রের নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী বছরগুলিতে ডিজনি তাদের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে। ফলে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য আগামী বছরগুলি অত্যন্ত আনন্দময় হতে চলেছে।
মন্তব্য করুন