বিশ্বজুড়ে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় বিমানবন্দরগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মূল্যায়ন সংস্থা স্কাইট্র্যাক্স। বার্ষিক ‘স্কাইট্র্যাক্স ওয়ার্ল্ড এয়ারপোর্ট অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর। তবে চাঙ্গি বিমানবন্দরের মতোই পূর্ববর্তী বছরগুলিতে শীর্ষস্থান অধিকার করা কাতারের হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবার অংশগ্রহণ করেনি যুদ্ধের কারণে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায় নিজেদের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে তারা পুরস্কার প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্কাইট্র্যাক্সের বার্ষিক সমীক্ষাটি সংগৃহীত হয়েছে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের যাত্রীদের মতামতের ভিত্তিতে। গত বছরের আগস্ট থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালে বিভিন্ন বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এই তালিকা। এবারও এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোর জয়জয়কার দেখা গেছে। শীর্ষ দশের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি এশীয় বিমানবন্দর। বিপরীতে ইউরোপের রয়েছে চারটি এবং উত্তর আমেরিকার একটি। যুক্তরাষ্ট্রের কোনও বিমানবন্দরই শীর্ষ বিশের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারেনি। নতুন করে যুক্ত হয়েছে কানাডার ভ্যানকুভার এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর।
সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা বিমানবন্দরের খেতাব অর্জন করেছে। এছাড়া তাদের রয়েছে বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর খাবারের অভিজ্ঞতা এবং অভিবাসন সেবার জন্য পুরস্কার। শীর্ষ দশের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পরিবারবান্ধব বিমানবন্দরের খেতাবও তাদের দখলে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপানের হানেদা বিমানবন্দর, যা বিশুদ্ধতার জন্যও বিশ্বসেরা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যেখানে রয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ওয়াশরুম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পঞ্চম স্থানে রয়েছে জাপানেরই নারিতা বিমানবন্দর, যেখানে কর্মীদের আন্তরিক সেবার জন্য স্বীকৃতি মিলেছে।
ইউরোপ থেকে চারটি বিমানবন্দর শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের প্যারিস চার্লস দ্য গোল বিমানবন্দর সেরা ইউরোপীয় বিমানবন্দরের স্বীকৃতি পেয়েছে। একইসঙ্গে তাদের রয়েছে ইউরোপের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বিমানবন্দরের খেতাব। ইতালির রোম ফিউমিসিনো বিমানবন্দরও ইউরোপের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার শিরোপা জিতেছে। জার্মানির মিউনিখ বিমানবন্দর শীর্ষ দশের নবম স্থানে রয়েছে কর্মীদের আন্তরিক সেবার জন্য ইউরোপের শ্রেষ্ঠ বিমানবন্দরের স্বীকৃতি নিয়ে। উত্তর আমেরিকা থেকে একমাত্র কানাডার ভ্যানকুভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে, যা উত্তর আমেরিকার শ্রেষ্ঠ বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
স্কাইট্র্যাক্সের সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এবার সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের মাধ্যমে। গত বছরের তুলনায় তারা বিশাল উন্নতি করে শীর্ষ দশে প্রবেশ করেছে। বিমানবন্দরটির কর্মীরা যাত্রীদের মানসিক প্রশান্তির জন্য থেরাপি ডগের ব্যবস্থাও চালু করেছে। এছাড়া বিমানবন্দরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির কারণে তারা এবার পুরস্কৃত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোর উন্নত পরিষেবা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণেই তারা বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলো এখনো সেই মান অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ভবিষ্যতে ভ্রমণপ্রিয়দের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের পরিষেবার মান উন্নয়নে আরও মনোযোগী হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন