ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও এক ভয়াবহ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। বুধবার সকাল থেকে ইরান ইসরাইল ও পারস্য উপসাগরের দেশগুলিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরাইল দাবি করেছে, তারা ইরানের গোয়েন্দা প্রধান এসমাইল খাতিবসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। তবে ইরান সরকার এই হত্যাকাণ্ডগুলিকে নিন্দা জানিয়ে তাদের দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে।
এই যুদ্ধের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ইরানকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করে দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী রক্ষার দায়িত্ব অন্য দেশগুলিকে নিতে হবে।
এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীও সরাসরি জড়িত। তারা ইতিমধ্যেই ইরানে ৭,৮০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ১২০টির বেশি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটও ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংসের জন্য একযোগে কাজ করছে। অন্যদিকে, ইরান কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও তীব্র করবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেছেন যে ইসরাইল এখন থেকে যেকোনো ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারবে, কোনো উচ্চ অনুমোদনের প্রয়োজন ছাড়াই। এদিকে, ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই ইরানের স্থিতিশীলতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, যদিও দেশটির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
এই যুদ্ধের ফলে মধ্য প্রাচ্যের স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলের বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। লেবাননে ইসরাইলের অভিযানে এখন পর্যন্ত নয় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিভিন্ন দেশ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আলোচনায় বসেছে।
মন্তব্য করুন