ওয়াশিংটন, ডিসি — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট গোয়েন্দা কমিটির সামনে বুধবার একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড এবং অন্যান্য শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ইরান যুদ্ধ সহ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিগুলির উপর আলোকপাত করবে এই শুনানি। গ্যাবার্ডের এটি তাঁর প্রথম জনসম্মুখ উপস্থিতি যেখানে তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা কেন্দ্রের প্রধান জো কেন্টের পদত্যাগের পর তাঁর অবস্থান তুলে ধরবেন।
গ্যাবার্ড তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে গোয়েন্দা সংস্থার বার্ষিক বিশ্বব্যাপী হুমকির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, যেখানে চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান সরকার অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়লেও তার ক্ষমতা এখনও রয়ে গেছে। শুনানিতে সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল উইলিয়াম হার্টম্যান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেমস অ্যাডামসও অংশ নিচ্ছেন।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার গ্যাবার্ডকে জর্জিয়া রাজ্যের ফুলটন কাউন্টিতে ভোট পদ্ধতি অনুসন্ধানে তাঁর উপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। ওয়ার্নার অভিযোগ করেন যে, গ্যাবার্ড তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষমতাকে দেশীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে প্রজাতন্ত্রী সিনেটর টম কটন তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে ইরান ও ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন।
গ্যাবার্ড তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে তাঁর উপস্থাপনা গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন তুলে ধরে, তাঁর ব্যক্তিগত মতামত নয়। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানান যে ইরান সরকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও এখনও মার্কিন ও মিত্র স্বার্থে আঘাত হানতে সক্ষম। তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শক্তি কয়েক বছরের মধ্যে পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টা চালাতে পারে।
সিআইএ পরিচালক র্যাটক্লিফ তাঁর সংস্থার সাম্প্রতিক সাফল্যগুলির প্রশংসা করেন, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ও ইরানে পরিচালিত অভিযানগুলির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিআইএ তার মূল মিশনে ফিরে এসে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্যদিকে জো কেন্টের পদত্যাগপত্রে তিনি ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেন এবং মার্কিন জনগণের কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি না থাকার কথা উল্লেখ করেন।
শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা ইরান যুদ্ধের যুক্তি ও এই সামরিক অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন। গ্যাবার্ডের উপস্থিতি এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিভক্ত মতামত দেখা দেয়। ডেমোক্র্যাটরা ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও রিপাবলিকানরা সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপগুলির প্রশংসা করেন। এই শুনানি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা নীতির ভবিষ্যতের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন