ইসরায়েল ও হামাসের চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলি সরকার নতুন এক সামরিক কৌশলের কথা জানিয়েছে, যা ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্র্যাটেজি’ নামে পরিচিত। যুদ্ধের একেবারে শুরুর দিকে ইসরায়েল সেনাবাহিনী হামাস নেতাদের টার্গেট করে সামরিক অভিযান চালায়। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল হামাসের নেতৃত্বকে ধ্বংস করা, যাতে গোষ্ঠীটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা হ্রাস পায়। আন্তর্জাতিক মহলে এই কৌশল ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করছে যে, এই ধরনের অভিযানে অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক হতাহত হচ্ছে।
এই যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা আরও ঘনীভূত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন এক সরকারি কর্মকর্তার পদত্যাগের ঘটনায়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুদ্ধের কারণে পদত্যাগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত সামরিক সাহায্য দিচ্ছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। তার মতে, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘনকে উৎসাহিত করছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, ইসরায়েল শুধুমাত্র নিজেকে রক্ষার জন্য লড়াই করছে।
যুদ্ধের ফলে গাজা উপত্যকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য বারবার আহ্বান জানালেও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ থামছে না। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ইসরায়েলের সামরিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ীত্বের অন্যতম কারণ।
এছাড়া, এই যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিক সংকটও আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে শরণার্থী সংকটও দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব বহুমুখী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করবে।
ইসরায়েলের যুদ্ধনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমেই বিরোধিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক দেশ ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যুদ্ধ নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায়।
মন্তব্য করুন