ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়লাভ করে উপ-রাজ্যপাল জুলিয়ানা স্ট্র্যাটনের বিজয় ইঙ্গিত দেয় যে রাজ্যপাল জেবি প্রিৎজকের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ক্ষমতা আগামী নির্বাচনেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। সিনেটর ডিক ডারবিনের অবসরের কারণে ফাঁকা আসনের জন্য এই নির্বাচনটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রিৎজক নিজেই প্রাথমিক নির্বাচনে তাঁর প্রিয় প্রার্থী হিসেবে স্ট্র্যাটনকে সমর্থন করেছিলেন এবং তাঁর প্রচারের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। এর ফলে রাজ্যপালের রাজনৈতিক প্রভাব তাঁর নিজের ভাগ্যের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। স্ট্র্যাটনের বিজয় প্রমাণ করে যে প্রিৎজকের নেতৃত্বের ধারা ভোটারদের দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে, যা আগামী নভেম্বরের নির্বাচনেও তাঁর জয়কে আরও সম্ভাবনাময় করে তুলেছে।
এই নির্বাচনটি ছিল প্রিৎজকের জন্য একটি উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। কারণ এটি কেবলমাত্র সিনেট আসনের জন্য নয়, তাঁর নিজের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারও একটি রেফারেন্ডাম ছিল। স্ট্র্যাটনের প্রচারাভিযান মূলত তাঁর ভূমিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল যে তিনি প্রিৎজকের প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন যে ইলিনয় রাজ্যে প্রিৎজকের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত নীতি, যেমন সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো, প্রকৃতপক্ষে ভোটারদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। স্ট্র্যাটন নিজেকে একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যিনি শুধুমাত্র উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং ইতিমধ্যেই বাস্তবায়িত নীতির মাধ্যমে তাঁর যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।
স্ট্র্যাটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা ছিলেন দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্যরা, যাঁরা ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সাথে বেশি জড়িত। তাঁর বিপরীতে স্ট্র্যাটন বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে ইলিনয় রাজ্যে প্রিৎজকের অধীনে ‘রান্নাঘরের টেবিল’ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান হয়েছে—যেমন মজুরি বৃদ্ধি, শিশু যত্ন এবং ভোক্তা সুরক্ষা। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে ওয়াশিংটনের ডেমোক্র্যাটরা প্রায়শই সাশ্রয়ী মূল্যের বিষয়গুলোর সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে, যেখানে ইলিনয় রাজ্যে প্রিৎজকের সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে প্রিৎজকের উচ্চপর্যায়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টিকেও নিজের প্রচারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, বিশেষ করে অভিবাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে।
প্রিৎজকের সমর্থন স্ট্র্যাটনের প্রচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি প্রাথমিক নির্বাচনের শুরুতেই স্ট্র্যাটনকে সমর্থন করেছিলেন এবং তাঁর প্রচারের জন্য বহু মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। এটি অনেকে সমালোচনা করেছেন, এমনকি কংগ্রেসের ব্ল্যাক ককাসের সদস্যরাও অভিযোগ করেছেন যে প্রিৎজক তাঁর প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনের ভারসাম্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। তবে স্ট্র্যাটনের বিজয় প্রমাণ করে যে প্রিৎজকের রাজনৈতিক কৌশল ও প্রভাব ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী। ভবিষ্যতে সাধারণ নির্বাচনে জিতলে স্ট্র্যাটন ইলিনয় রাজ্যের দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
স্ট্র্যাটনের বিজয়ের মাধ্যমে প্রিৎজক তাঁর বিরোধীদের সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এছাড়া এটি প্রমাণ করে যে ইলিনয় রাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিতে প্রিৎজকের রাজনৈতিক অবকাঠামো—যেমন তহবিল সংগ্রহের নেটওয়ার্ক এবং ভোটারদের মাঠ পর্যায়ে প্রভাবিত করার ক্ষমতা—আজও প্রভাবশালী। ভবিষ্যতে সাধারণ নির্বাচনে জিতলে স্ট্র্যাটন প্রিৎজকের একজন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে কাজ করতে পারেন। কারণ তিনি অভিবাসন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যা প্রিৎজকের নিজস্ব অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই প্রাথমিক নির্বাচন ইলিনয় রাজ্যের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে গভীর বিভাজনকে উন্মোচিত করেছে—যেমন অভিবাসন নীতি, বহিরাগত অর্থের প্রভাব এবং প্রজন্মগত পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে মতবিরোধ রয়েছে। তবে স্ট্র্যাটনের বিজয় প্রিৎজককে এই বিভাজনগুলোর মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল তাঁকে দুর্বল করেনি, বরং তাঁর পছন্দের প্রার্থীর বিজয়কে নিশ্চিত করেছে। ফলে আগামী সাধারণ নির্বাচনে প্রিৎজকের পদক্ষেপগুলো আরও সুসংহত হতে পারে।
মন্তব্য করুন