বাংলাদেশের ভূমিহীন ও ক্ষেতমজুর সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের চার দশকের অক্লান্ত সংগ্রামের স্মারক হিসেবে বুধবার পালিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের ১৮ মার্চ প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি গ্রামীণ মেহনতি মানুষের জীবনে আলোর দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টন, ন্যায্য মজুরি আদায়, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং প্রবীণ মজুরদের জন্য মাসিক পেনশনের মতো দাবিগুলোকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে সংগঠনটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক মহতী আলোচনা সভার আয়োজন করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান, কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার হোসেন রেজা ও সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার। তাঁরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভক্ষণে সংগঠনের সকল নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তাঁরা সংগঠনের বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদ হওয়া, আহত হওয়া এবং জেল-জুলুমের শিকার হওয়া সকল নেতাকর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি ভূমিহীন ও ক্ষেতমজুরদের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি শ্রমিকদের জন্য সারা বছর কাজের নিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, সন্তানদের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধি। এছাড়াও প্রবীণ ক্ষেতমজুরদের জন্য মাসিক দশ হাজার টাকা হারে পেনশনের ব্যবস্থা এবং ভূমিহীনদের মধ্যে খাসজমি বণ্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোও রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত সংগঠনের কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাঁরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন ক্ষেতমজুরদের অধিকার রক্ষায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং সংগঠনের কর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন বন্ধ করা হয়। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন যে, ক্ষেতমজুরদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষেতমজুর ও ভূমিহীনরা অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও সংগঠনের উদ্যোগে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে, যেখানে সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও অর্জনগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হবে। ক্ষেতমজুরদের অধিকার আদায়ের এই দীর্ঘ পথচলায় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সকলকে একত্রিত হতে এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন