প্রতি বছর মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বান্দরবানের সাঙ্গু নদীর তীরে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাপূজা ও বারুণী স্নান। এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। স্থানীয় ধর্মীয় সংস্থা আশীর্বাদ সংঘের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এই মহতী আয়োজনে অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। পাপমোচন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির কামনায় সাঙ্গু নদীর প্রবাহিত জলে স্নান করেছেন তাঁরা। উৎসবের প্রথম দিন থেকেই সাঙ্গু নদীর চারিদিকে ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
তিন দিন ধরে চলে গঙ্গাপূজা ও বারুণী স্নান উৎসব। প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় পূজা-অর্চনা ও তর্পণ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বহু পুণ্যার্থী নদীতীরে উপস্থিত থেকে শিবলিঙ্গে দুধ দান করেন। পুরোহিতদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় মহাসমারোহ আরতি। বিশেষ করে মহিলারা দলবদ্ধভাবে সিঁদুর খেলায় অংশ নিয়ে একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে আরতির পরিবেশনা হয় আরও প্রাণবন্ত।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে চলে বারুণী স্নান। সকালের প্রথম আলো গঙ্গাজলে মিলেমিশে একাকার হওয়ার মুহূর্তটিই ছিল সবচেয়ে মঙ্গলময়। বহু ভক্ত নদীর জলে প্রদীপ ভাসিয়ে দেন স্বর্গীয় ইচ্ছার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা জানিয়ে। অনেকে আবার নাগাকৃতির বিশেষ প্রদীপ দিয়ে নিজেদের মনোকামনা ব্যক্ত করেন। পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার জন্য একাধিক ঘাটে ভিড় জমে থাকে। সন্ধ্যার দিকে চলে বিশেষ পূজা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন।
তিন দিনের এই উৎসবের শেষ দিন ছিল সবচেয়ে বর্ণাঢ্য। বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মহাসমারোহ আরতি। পুরোহিতরা বাদ্যযন্ত্র সহযোগে উচ্চস্বরে স্তোত্র ও আরতি আবৃত্তি করেন। মহিলারা দলবদ্ধভাবে নাচের তালে তাল মিলিয়ে আরতি করেন। উৎসবের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর তীর ছিল উৎসবমুখর। বহু মানুষের উপস্থিতিতে স্থানটি পরিণত হয়েছিল এক মিলনমেলায়।
সাঙ্গু নদীর তীরে এই ধরনের ধর্মীয় উৎসব স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছরই হাজার হাজার মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এই ধরনের ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হয়। ফলে উৎসবটি হয়ে ওঠে আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ।
মন্তব্য করুন