গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাতের নতুন ঢেউ দেখা যাচ্ছে। দুই দেশের সরকারই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের। তবে মূল সমস্যার শুরু হয়েছে পাকিস্তানের তরফ থেকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী দলকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত একটি উগ্রপন্থী দলের হামলায় দেশটির বহু সেনা সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। ফলে পাকিস্তানের সরকার আফগানিস্তানকে সতর্ক করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, তাদের ভূখণ্ড থেকে কোনও উগ্রপন্থী দলকে পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইলেও পাকিস্তানের এই অভিযোগ তাদের পরিকল্পনার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার দাবি করছে যে আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত উগ্রপন্থী দলগুলো দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর জন্য দায়ী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের ফলে দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরও গভীর হতে পারে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের ইতিহাসে কয়েকবারই এমন উত্তেজনা দেখা গেছে। বিশেষ করে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করলেও পাকিস্তান সহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের সরকারকে পুরোপুরিভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক মহলে বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত দ্রুত মেটানোর জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা জরুরি। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে যাতে দুই দেশের নেতৃত্ব আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে। অন্যথায় এই সংঘাত আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই আফগানিস্তান সংকটে জর্জরিত এবং পাকিস্তানেও অর্থনৈতিক সংকট চলছে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা দুই দেশের জনগণের জীবনযাত্রায় আরও দুর্ভোগ বয়ে আনবে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের সরকারই যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়, তাহলে এই সংঘাতকে শান্তিপূর্ণভাবে মেটানো সম্ভব। আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য আরও উদ্যোগী হতে হবে। অন্যদিকে পাকিস্তানকেও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। কেবলমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন