আজ মঙ্গলবার বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে নতুন ঢেউ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই শতাংশের বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে একশো তিন ডলারে। একই সময়ে মার্কিন তেল ডব্লিউটিআই-এর দামও প্রায় দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে উঠেছে প্রায় পঁচানব্বই ডলারের কাছাকাছি। বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গঠনের প্রচেষ্টায় অনিশ্চয়তার জেরেই মূলত এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। এশিয়ার বাজারে যখন তেলের দামের এই উল্লম্ফন দেখা গেছে, তখন ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গতকাল সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড জার্নাল সূত্রে খবর, এই প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় বহুজাতিক সামরিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা চলছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে, কিছু দেশ এই উদ্যোগে পুরোপুরি সম্মত নয়।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির বিশ্লেষক সল কেভনিক মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তাগুলোতে ক্রমাগত পরিবর্তনের কারণে বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন পুরোপুরি যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা প্রবল।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এটি বিশ্বের সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের প্রায় তেত্রিশ শতাংশ। ফলে এই প্রণালিতে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-এর প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে জরুরি তেল মজুত থেকে বাজারে আরও তেল ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, বিমা সুরক্ষা বা নৌবাহিনীর পাহারার মতো ব্যবস্থাগুলোও পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন