গত কয়েক বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল গুলির ঘটনা প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবারই এমন ঘটনার পর মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, শোক আর হতাশা প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সেই বেদনার মধ্যেও এক আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক যুগল এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সিবিএস নিউজের স্টিভ হার্টম্যান এবং আলোকচিত্রী লু বপ তাদের কাজের মাধ্যমে মানুষের অন্তরের স্পন্দনকে স্পর্শ করেছেন। তাদের নির্মিত তথ্যচিত্র ‘অল দ্য এম্পটি রুমস’ (‘সব খালি ঘরগুলি’) সম্প্রতি অস্কার পুরস্কার জয় করেছে। এই চলচ্চিত্রটি শুধু একটি পুরস্কার নয়, এটি মানুষের প্রতি সহানুভূতির এক মহৎ প্রকাশ।
স্টিভ হার্টম্যান এবং লু বপ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে ঘটে যাওয়া গুলির শিকার শিশুদের ঘরগুলি চিত্রায়িত করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেই শিশুদের জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলি ধরে রাখা, যাতে মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন ও জীবনের কথা কখনও ভুলে না যায়। প্রতিটি ঘরের দেয়ালে টানানো ছবি, খেলনা, স্কুল ব্যাগ আর খাতার পাতায় লেখা স্বপ্নগুলি যেন তাদের অস্তিত্বের সাক্ষ্য বহন করে। এই তথ্যচিত্রটি দেখে দর্শকদের চোখে জল আসা স্বাভাবিক, কারণ এটি শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, এটি একেকটি জীবনের গল্প।
এই চলচ্চিত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন ও আবেগপূর্ণ। হার্টম্যান এবং বপ প্রায়শই সেই সব পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, যারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও ঘরের ছবি তোলার সময় তাঁরা নিজেরাও গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। হার্টম্যান বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম এই প্রকল্প শুরু করি, তখন বুঝতে পারিনি যে এটি আমাদের জীবনকে কতটা বদলে দেবে। প্রতিটি ঘরই একটি গল্প বলে, এবং সেই গল্পগুলি আমাদের মানবিকতার মুখোমুখি দাঁড় করায়।’
অস্কার পুরস্কার প্রাপ্তির পর হার্টম্যান ও বপের কাজ আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হয়েছে। অনেকেই তাদের প্রচেষ্টাকে মানবিকতার এক মহৎ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে তারা শুধু যে শিশুদের জীবনের কথা তুলে ধরেছেন তাই নয়, বরং তারা মানুষের মধ্যে সহানুভূতি ও সংহতির বার্তাও পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের এই কাজ শুধু চলচ্চিত্র জগতেই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
বর্তমান বিশ্বে যেখানে হিংসা ও বিভেদের ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, সেখানে হার্টম্যান ও বপের মতো মানুষেরা আমাদের আবারও মানবতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। তাদের কাজ শুধু একটি চলচ্চিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের সূচনা। তাদের অর্জন সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে এক বার্তা বহন করে যে, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতিই পারে এই পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তুলতে।
সূত্র: CBC NEWS
মন্তব্য করুন