গত এক বছরের কারাবাস শেষে অবশেষে মুক্তি পেলেন কলম্বিয়ায় প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী লিকা কর্দিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল অভিবাসন আইন ভঙ্গের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাঁকে টেক্সাসের একটি অভিবাসন কারাগারে এক বছর ধরে আটক রেখেছিল। কর্দিয়া জানান, আটকাবস্থায় তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। তাঁর মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন মহল থেকে চাপ আসছিল।
লিকা কর্দিয়া (৩৩) ছিলেন কলম্বিয়ার একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে বসবাস করতেন। ২০২৪ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণের সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আইসিই তাঁকে অভিবাসন আইনের অধীনে আটক করে রাখে। তাঁর আইনজীবীরা জানান, কর্দিয়ার বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি অভিযোগ ছিল না, শুধুমাত্র অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগই ছিল। তাঁর মুক্তির পক্ষে যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং তাঁর বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কর্দিয়ার মুক্তির পর তাঁর পরিবার ও সমর্থকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তাঁর মা জানান, “আমরা সবসময় বিশ্বাস করতাম যে তিনি নির্দোষ এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে। তাঁর মুক্তির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি।” অন্যদিকে, তাঁর আইনজীবী জানান যে তাঁরা এখন তাঁর বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আবেদন করবেন। এছাড়া, কর্দিয়ার বিরুদ্ধে কোনও প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তাঁর আইনজীবী।
এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন ও মানবাধিকারের বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিবাসন আইনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। তাঁরা জানান, অভিবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এছাড়া, রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে বলে মত তাঁদের।
লিকা কর্দিয়ার মুক্তির ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংস্থা তাঁর মুক্তির জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে। তাঁরা জানান, এমন ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য কলঙ্কজনক এবং অভিবাসন আইনের সংস্কার অতি জরুরি। অন্যদিকে, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং আইনের দৃষ্টিতে সবার সমান অধিকার রয়েছে।
সূত্র: NEW YORK TIMES
মন্তব্য করুন