মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জয়ের কাহিনীতে বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের নাম বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। ১৫ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ভিশাখাপাতনামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মুস্তাফিজুর ৩ উইকেট নিয়ে ১৬ রান দিলে তার দল ৮৫ রানে বিজয়ী হয়। এটিই তার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।
এই তিন উইকেটের সাথে মুস্তাফিজুরের আইপিএল-এ মোট উইকেটের সংখ্যা ১৩-এ পৌঁছেছে। এতে তিনি উইকেট টেকারদের তালিকায় যৌথ দ্বিতীয় স্থান দখল করেছেন। মিচেল ম্যাকক্লেনাগানের ১৪ উইকেটের সাথে তার মাত্র ১ উইকেটের ব্যবধানে রয়েছে।
২০ বছর বয়সী মুস্তাফিজুর বর্তমানে টুর্নামেন্টের সেরা বোলিং গড় (১৫.৬১) এবং সেরা ইকোনমি রেট (৬.১৫) ধারণ করে আছেন। এছাড়া তিনি এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে অংশ নিয়ে এটিই তার সেরা প্রদর্শন।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ দলের পক্ষে মুস্তাফিজুরের এবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ম্যাচের শুরুতে আশীষ নেহরা, ভুবনেশ্বর কুমার এবং বরিন্দর স্রান একত্রে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৯ ওভারে ৪৯ রানে ৬ উইকেটে ফেলে দিলে মুস্তাফিজুরকে বল দেওয়া হয়।
মুস্তাফিজুরের প্রথম বলেই তিনি হারদিক পান্ড্যাকে আউট করেন। পান্ড্যাকে কাটার জন্য বোলিং করলেও বলটি কিপারের হাতে পৌঁছায়। টিভি রিপ্লে দেখলে স্পষ্ট ছিল না, কিন্তু আম্পায়ার তাকে আউট ঘোষণা করেন। তার দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই তিনি আবার একই ধরনের বল দিয়ে টিম সাউদির ব্যাটের স্পর্শ করে কিপারের হাতে পৌঁছায়।
মুস্তাফিজুরের তৃতীয় ওভারের শেষ বলেই তিনি ম্যাকক্লেনাগানকে আউট করেন। ম্যাকক্লেনাগান মিড-উইকেটে ক্যাচ দিলে মুস্তাফিজুরের উইকেটের সংখ্যা ১৩-এ পৌঁছায়।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে সানরাইজার্সের ব্যাটসম্যানরা ১৭৭ রান তুলে। শিখর ধাওয়ান ৫৭ বলে ৮২ রান, ডেভিড ওয়ার্নার ৩৩ বলে ৪৮ রান এবং ইউভরাজ সিংহ ২৩ বলে ৩৯ রান তুলেন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটসম্যানরা ১৬.৩ ওভারে মাত্র ৯২ রান তুলতে সক্ষম হয়। মুস্তাফিজুরের এবারও সানরাইজার্সের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
বাংলাদেশের প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য মুস্তাফিজুরের এই ধরনের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উৎসাহজনক। তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লীগে শীর্ষস্থানীয় বোলারদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া তিনি আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়। নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য মুস্তাফিজুরের এই ধরনের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উৎসাহজনক।
মুস্তাফিজুরের এই ধরনের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের যুবজনের জন্যও উৎসাহজনক। তিনি দেখিয়েছেন যে, বাংলাদেশের যুবজনেরও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা আছে।
মুস্তাফিজুরের এই ধরনের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রীড়া বিশ্বের জন্যও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়া বিশ্বের জন্য নতুন দিক নির্দেশনা করছেন।
মন্তব্য করুন