চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা এলাকায় বোমা তৈরির সময় ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া গ্রামে আবুল কালামের বাড়িতে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনায় আল আমিন ও জিহাদ আলী নামে দুজন তরুণ নিহত হন এবং বজলুর রহমান, শুভ ও মিনহাজ আলী আহত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি শরিফ উদ্দীনর ভাই আবুল কালামের বাড়িতে ঘটে। তদন্তে উঠে এসেছে যে দুলালের তত্ত্বাবধানে সেখানে বোমা তৈরির কাজ চলছিল। ঘটনার পর রাতে সদর থানার উপপরিদর্শক বেলাল হোসেন বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
গতকাল শনিবার রাতে চরবাগডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে আবদুল মালেক (৪৬) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, মালেক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর আহত তিনজন বজলুর রহমান, শুভ ও মিনহাজ আলীকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে চরবাগডাঙ্গা এলাকা থেকে ইউসুফ (৪৫) ও শাকিল (৩৭) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মূলহোতাদের একজন শরিফ উদ্দীনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। সর্বশেষ গতকাল শনিবার রাতে আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হলে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭।
এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষত আমেরিকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীরা এই ধরনের ঘটনার প্রতি অত্যন্ত সচেতন। তারা মনে করেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে হবে। তারা এ ধরনের ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য নিজেদের পরিবারকে সতর্ক করতে চায়।
এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত চলছে। তারা আরও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন