রমজান মাসের আগমনে প্রতিটি বাংলাদেশি পরিবার এক বিশেষ আত্মায় ভরে ওঠে। বড়দের কাছে এটি ইবাদত ও ধৈর্যের মাস, কিন্তু শিশুদের জন্য এটি রঙিন সাজসজ্জা, মিষ্টি ঘ্রাণ এবং পরিবারের সাথে ভালোবাসার মুহূর্তের মাস। আমেরিকার মতো দূর দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারও এই মাসকে বিশেষ করে তুলতে চান। তাহলে কীভাবে আমরা শিশুদের জন্য এই মাসটিকে স্মরণীয় করে তুলবো? এখানে পাঁচটি সৃজনশীল কৌশল আছে যেগুলো শিশুদের হৃদয়ে রমজানের মূল্যবোধ গড়ে দিবে।
প্রথমত, শিশুদেরকে রমজানের প্রকৃত অর্থ বুঝিয়ে দিতে হবে। ‘খেতে নেই’ এই কথায় রমজান শেষ নয়। শিশুদেরকে সহজ ভাষায় বোঝিয়ে দিন যে রমজান হলো ধৈর্য, দয়া এবং অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাস। গল্পের ছলে তাদের সামনে তুলে ধরুন কেন আমরা রোজা রাখি। যখন তারা বুঝবে এই মাসের প্রকৃত অর্থ, তখন তারা সচেতনভাবে রমজান পালন করতে শুরু করবে।
দ্বিতীয়ত, শিশুদেরকে রমজানের প্রতিদিনের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করুন। ইফতারের দস্তরখান সাজাতে সাহায্য করুন, আজান দেওয়ার সুযোগ দিন, বা ছোট ছোট দোয়া পড়তে শিখান। পরিবারকে একত্রিত করে নবী-রাসুলদের জীবনী বা সাহাবীদের গল্প শুনান। এসব কাজ শিশুদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পরিবারের প্রতি একাত্মতা বৃদ্ধি করবে।
তৃতীয়ত, রমজানকে শিশুদের কাছে সৃষ্টিশীলতায় পরিণত করুন। রঙিন কাগজ দিয়ে লণ্ঠন বা ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড বানাতে উৎসাহিত করুন। একটি সদকা বক্স বানিয়ে প্রতিদিন কিছু পয়সা জমা দিতে বলুন। মাস শেষে সেই টাকা অভাবী কাউকে দিয়ে ‘দেওয়ার আনন্দ’ শিখান। এসব কাজ শিশুদেরকে রমজানের মূল্যবোধকে সৃজনশীলভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করবে।
চতুর্থত, শিশুদেরকে ধীরে ধীরে রোজা রাখার অভ্যাস করান। তাদেরকে চাপ দেবেন না। ‘পাখি রোজা’ বা অর্ধেক বেলা রোজা রাখার পদ্ধতি ব্যবহার করুন। রোজা ভেঙে ফেললে তাদেরকে দোষ দেবেন না। বরং প্রশংসা ও স্নেহের মাধ্যমে উৎসাহিত করুন। শরীর খারাপ লাগলে রোজা ভেঙে ফেলা কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং নিজের যত্ন নেওয়া।
পঞ্চমত, শিশুদেরকে সহমর্মিতা ও উদারতার বীজ বপন করুন। রমজান হলো অন্যের কষ্ট অনুভব করার মাস। শিশুকে নিয়ে প্রতিবেশী বা অভাবী মানুষের জন্য ইফতারি বা উপহার প্রস্তুত করুন। যখন তারা দেখবে তাদের বাবা-মা অন্যদের সাহায্য করছেন, তখন সেই আদর্শ তাদের চরিত্রে মিশে যাবে।
আমেরিকার মতো দূর দেশে থাকা প্রবাসী পরিবারও এই কৌশলগুলি অনুসরণ করে শিশুদেরকে রমজানের মূল্যবোধ গ্রহণ করতে সাহায্য করতে পারে। রমজানকে শুধু রোজা ও ইফতারের মাস না করে, শিশুদের হৃদয়ে স্মরণীয় করে তুলুন।
মন্তব্য করুন