সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী খালাফ আহমদ আল-হাবতুরের এক চিঠি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক মঞ্চে তরুণে ঝড় উঠিয়েছে। এই ধনকুবের, যিনি ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদসহ হোটেল, শিক্ষা ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের জন্য পরিচিত, হঠাৎ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি খোলাচিঠি লিখেন। প্রশ্নটি ছিল সরল কিন্তু তীক্ষ্ণ: “ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে আমাদের অঞ্চলকে জড়াতে আপনাকে কে অনুমতি দিলেন?”
আল-হাবতুরের প্রশ্নের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি গভীর উদ্বেগ। ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষের ফলশ্রুতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো বিপদে পড়েছে। যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে আল-হাবতুর ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ জানতে চান। তিনি প্রশ্ন করেন, কি এই যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্টের একাকী সিদ্ধান্ত, নাকি ইসরায়েলের চাপে নেওয়া?
আল-হাবতুরের চিঠিতে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে: “যুদ্ধে যাওয়ার আগে আপনি কি এর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব মাথায় রেখেছিলেন?” তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের ভয়কে তুলে ধরেন, যে ভয় তাদের দেশগুলো যুদ্ধের আগুনে পুড়ে মরতে পারে। আল-হাবতুর ট্রাম্পের ‘শান্তির মুখপাত্র’ দাবিকে বিদ্রূপ করে বলেন, শান্তির নামে যে ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করা হয়েছিল, তার কালি শুকানোর আগেই ট্রাম্প কেন এমন একটি যুদ্ধ বাঁধিয়ে বসেছেন?
এই চিঠির গুরুত্ব হলো যে, সাধারণত ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য মার্কিন সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে থাকেন আরব আমিরাতের শাসক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এইবার আল-হাবতুরের মুখ খোলার পেছনে রয়েছে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব। যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য এই সংবাদ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সাথে অর্থনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষা করে থাকেন। যুদ্ধের প্রসারিত হওয়ার ভয়ে তারা সতর্ক থাকা উচিত। আল-হাবতুরের প্রশ্নটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি প্রতিফলন, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই চিঠির মাধ্যমে আল-হাবতুর প্রজ্ঞা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও শান্তি অন্বেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে প্রকৃত নেতৃত্ব ধরা পড়ে না। তা ধরা পড়ে প্রজ্ঞা ও শান্তি অন্বেষণায়। এই বার্তাটি বিশ্বের সকল দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণীয়।
Source: Prothom Alo
মন্তব্য করুন