নিউ ইয়র্কের প্রবাসী বাংলা সম্প্রদায়ের জন্য ProbashiNews এ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আমেরিকার প্রখ্যাত কেনেডি সেন্টারের সভাপতি রিচার্ড গ্রেনেল পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগের খবর এসেছে জুলাই মাসে সেন্টারের সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার প্রায় তিন মাস আগে।
গ্রেনেল, যিনি আগে জার্মানির মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন, তার পদত্যাগের খবর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই তাদের Truth Social প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প, যিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কেনেডি সেন্টারের চেয়ারম্যান, তিনি ম্যাট ফ্লোকাকে, সেন্টারের বর্তমান অপারেশন্সের ভাইস প্রেসিডেন্টকে নতুন চিফ অপারেটিং অফিসার এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছেন।
কেনেডি সেন্টার, যা আমেরিকার সাংস্কৃতিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ, এই সংস্কার কাজের জন্য দুই বছর ধরে বন্ধ থাকবে। তবে এই সংস্কার কাজের প্রকৃতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও (NPR) রিপোর্ট করেছে যে সংস্কার কাজের মধ্যে কিছু সীমিত সংস্কার এবং কস্মেটিক পরিবর্তন রয়েছে, যা মাত্র দুই বছর আগে সম্পন্ন হয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এটি একটি “সম্পূর্ণ পুনরুজ্জীবন” হবে।
গ্রেনেলের সভাপতি হিসেবে থাকার সময় কেনেডি সেন্টার বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল। অনেক বিখ্যাত শিল্পী তাদের অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন, ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা সেন্টার থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছে, এবং অনেক দীর্ঘকালীন কর্মচারী পদত্যাগ করেছেন। টিকিট বিক্রিও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
গ্রেনেল, যিনি শিল্প প্রশাসনে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না, জানিয়েছেন যে কেনেডি সেন্টারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। তিনি বলেছেন, “আমাদের অর্থ হারানোর শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে না”। তবে শিল্পের বাস্তবতা হল যে বড় প্রতিষ্ঠানগুলি সাধারণত আয়ের বিভিন্ন উৎসের উপর নির্ভর করে, যার মধ্যে রয়েছে দান এবং সরকারী অনুদান।
এই সমস্ত সমস্যার পেছনে রয়েছে গ্রেনেলের রাজনৈতিক অবস্থান। তিনি একজন ট্রাম্প সমর্থক এবং প্রায়ই “বামপন্থী কর্মী” শব্দটি ব্যবহার করেন। সিনেট ডেমোক্র্যাটরা গ্রেনেল এবং কেনেডি সেন্টারের বর্তমান নেতৃত্বকে কোণ্যবাদ এবং দুর্নীতি অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। তারা দাবি করেছেন যে মিলিয়ন ডলার হারিয়েছে, লাক্সারি খরচ হয়েছে এবং ট্রাম্পের সমর্থকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। গ্রেনেল এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন।
এই খবর আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কেনেডি সেন্টার আমেরিকার সাংস্কৃতিক জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। আমাদের অনেকেই নিউ ইয়র্ক ও অন্যান্য শহরে থাকাকালীন কেনেডি সেন্টারের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছি বা তাদের সম্পর্কে শুনেছি। এই সংস্কার কাজের পর কেনেডি সেন্টার কীভাবে দেখতে আসবে, তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে।
ProbashiNews-এর পাঠকদের জন্য, আমরা এই খবরকে আরও বিস্তারিতভাবে অনুসরণ করব এবং আপনাদের সাথে সকল আপডেট শেয়ার করব। আমাদের সম্প্রদায়ের সদস্যরা যদি কেনেডি সেন্টারের সংস্কার কাজের সম্পর্কে তাদের মতামত জানান, আমরা সেগুলোও প্রকাশ করব।
Source: NPR News
মন্তব্য করুন