মিয়ামির উষ্ণ আবহাওয়া আর ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার মান তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। স্কট স্কোভেল নামের এক ব্যক্তি নিউইয়র্ক থেকে মিয়ামিতে চলে আসেন তাঁর ৫৮ বছর বয়সে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত প্রবণতার সাথে তাল মিলিয়ে সস্তা জীবনযাত্রা আর করব্যয় এড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু তাঁর প্রত্যাশার তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটাই কাছাকাছি ছিল। তবে সবচেয়ে বড় বিস্ময় তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিল জীবনের অন্য এক মোড় খুলে দেওয়ার মতো। স্কোভেল নিউইয়র্ক থেকে মিয়ামিতে চলে আসার পর তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে যখন তিনি তাঁর মুম্বাইয়ের বাড়ি বিক্রি করে মিয়ামিতে একটি সস্তা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে ফেলেন। ফলে তাঁর কোনো লোন থাকল না এবং তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে ফেলতে পারেন চার বছর আগেই।
স্কোভেল ছিলেন একজন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক। নিউইয়র্কে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে চাকরি করার পর তিনি তাঁর সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় দিয়ে মিয়ামিতে একটি দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন মাত্র ৭ লক্ষ ২৭ হাজার মার্কিন ডলারে। যেখানে তাঁর নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করেছিলেন ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার ডলারে। অর্থাৎ তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সঞ্চয়টা ঘটেছিল তাঁর এই বাড়ি কেনাবেচার মাধ্যমে। তাঁর মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় তিনি তাঁর সঞ্চয় দিয়ে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন ৬০ বছর বয়সে। নিউইয়র্ক থেকে স্বল্প ট্যাক্স আর কম জীবনযাত্রার ব্যয় তাঁর কাছে আকর্ষণীয় হলেও মিয়ামিতে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় লাভটা এসেছিল তাঁর অবসর জীবন সহজ করার মাধ্যমে।
স্কোভেল মিয়ামির আবহাওয়া আর বহু সংস্কৃতির মিলনস্থলকে ভালোবাসলেও নিউইয়র্কের মতো বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি তাঁর কাছে অনুপস্থিত। নিউইয়র্কে যেমন তাঁর কাছে মুহূর্তের মধ্যেই থাই খাবার, আফ্রিকান শিল্পকলা প্রদর্শনী কিংবা ইউরোপীয় চলচ্চিত্র উৎসবের সুযোগ ছিল, মিয়ামিতে তা অনেকটাই কম। তাছাড়া নিউইয়র্কের মতো দ্রুতগামী পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা তাঁর কাছে অনুপস্থিত। তবে মিয়ামির আবহাওয়া তাঁকে মুগ্ধ করেছে। শীতকালে মাত্র চার মাস নিউইয়র্কে থাকার পর মিয়ামিতে তিনি বছরের প্রায় প্রতিদিনই শর্টস পরে থাকতে পারেন। তাঁর কাছে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপও অসহনীয় নয়, কারণ তিনি ভোরে ব্যায়াম করেন, দুপুরে রোদ এড়িয়ে থাকেন এবং সন্ধ্যায় আবার বাইরে বের হন।
তবে স্কোভেল তাঁর স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরে নিয়েছেন তাঁর বাড়ির দামের পার্থক্যকে। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সঞ্চয়টা ঘটেছিল তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট কেনাবেচার মাধ্যমে। তাঁর মতে, নিউইয়র্কের তুলনায় মিয়ামিতে বাড়ির দাম অনেকটাই কম ছিল। ফলে তাঁর কোনো লোন থাকল না এবং তিনি তাঁর সঞ্চয় দিয়ে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে পারেন। তাঁর কাছে মিয়ামির অবসর জীবন অনেকটা যেন অনন্ত যৌবনের উৎস হয়ে উঠেছে। তিনি এখন নিয়মিত ভ্রমণ করেন, বিভিন্ন ধরনের শখের কাজ করেন, এমনকি অভিনয় ক্লাসেও ভর্তি হয়েছেন। স্কোভেলের মতে, তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টাই এসেছে তাঁর মিয়ামিতে অবসর গ্রহণের মাধ্যমে।
মন্তব্য করুন