অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করা মানেই জীবনের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়া নয়। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি যাঁরা তিরিশের আগেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন তাঁদের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন যে, অবসর জীবন মানেই আনন্দময় জীবন নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পেছনে ছোটার সময় তাঁরা জীবনের অনেক মূল্যবান মুহূর্ত হারিয়ে ফেলেছেন। আবার অবসরে যাওয়ার পরে দেখা গেছে নতুন জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
যেমন রোজ হান নামের একজন ব্যক্তি তিরিশ বছর বয়সেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হয়ে যান। তিনি তাঁর কর্মজীবন শেষ করে একটি ঘুরন্ত ভ্যানে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যেই তাঁর সেই স্বাধীনতা কেমন যেন ফিকে হয়ে আসে। তাঁর মনে হতে থাকে, দিনের পর দিন একই রুটিনের মধ্যে জীবন কাটানো আর খুব একটা অর্থপূর্ণ মনে হয় না। একইভাবে জোসেট চ্যাং নামে আরেক ব্যক্তি তাঁর অর্থবিভাগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে অবসরে যান। কিন্তু তাঁরও মনে হয়েছে যে অবসর জীবনের পর নতুন করে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।
গুয়েন্ডোলিন মার্জ নামে আরেক ব্যক্তি তিরিশ বছর বয়সেই চাকরি ছেড়ে দেন। তিনি ভেবেছিলেন যে অর্থ সঞ্চয়ের মাধ্যমে তিনি খুব তাড়াতাড়ি অবসরে যেতে পারবেন। কিন্তু তাঁর সঞ্চয় বেশিরভাগই অবসরকালীন হিসাবেই বিনিয়োগ করা ছিল। আবার স্বাস্থ্যবিমার খরচ অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় তাঁকে আবার চাকরিতে ফিরে যেতে হয় মাত্র নয় মাসের মধ্যেই। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে, কাজের স্থিতিশীলতা এবং নিয়মিত আয় অনেক সময় স্বাধীনতার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়ার জন্য অনেকেই অত্যধিক পরিমাণে অর্থ সঞ্চয় করেন। কিন্তু তাঁদের অনেকেই জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিককে উপেক্ষা করে ফেলেন। যেমন রোজ হানের মতে, অর্থ সঞ্চয়ের প্রতি অত্যধিক মনোযোগ মানুষকে তাঁর প্রিয়জনদের সঙ্গ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, “আমরা অর্থ সঞ্চয়ের প্রতি এতটা মনোযোগ দিই যে জীবনের মূল্যবান মুহূর্তগুলিকে প্রায় ভুলেই যাই।” তাঁর মতে, অবসর জীবনের আগে মানুষকে ভাবতে হবে যে কীভাবে এমন একটি জীবন গড়ে তোলা যায় যাতে অবসর নেওয়ার কথা মনে না আসে।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করা মানেই জীবনের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়া নয়। অনেকেই ভেবেছিলেন যে অবসর জীবনে তাঁরা অনেক বেশি সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারবেন, নতুন দক্ষতা অর্জন করবেন অথবা ভ্রমণ করবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে অবসর জীবন মানেই আনন্দময় জীবন নয়। অনেকেই আবার চাকরিতে ফিরে যান কারণ তাঁদের মনে হয় যে কাজের মাধ্যমেই জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। সুতরাং, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের আগে মানুষকে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য এবং মূল্যবোধ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে ভাবতে হবে।
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে, কিন্তু তা জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। মানুষকে জীবনের অন্যান্য দিক যেমন সম্পর্ক, স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত বিকাশের দিকে আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত। কেননা জীবনের প্রকৃত সুখ অনেক সময়ই অর্থের পেছনে ছোটার মধ্যে নয়, বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিকে উপভোগ করার মধ্যে নিহিত থাকে।
মন্তব্য করুন