যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। সোমবার শুনানি শুরু হতে চলেছে মিসিসিপি রাজ্যের ডাকযোগে ভোটপত্র প্রাপ্তির সময়সীমা নিয়ে। যদি সুপ্রিম কোর্টের রায় মিসিসিপির পক্ষে যায়, তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ত্রিশটি রাজ্যের ভোটিং নিয়মে পরিবর্তন আনতে পারে। ইতোমধ্যেই প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন, আর ভোটপদ্ধতি নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক।
মামলাটির নাম ওয়াটসন বনাম রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি। এর মূল প্রশ্ন হলো, মিসিসিপি কি নির্বাচনের দিনেই ডাকযোগে ভোটপত্র গ্রহণ করতে পারবে নাকি পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেও ভোটপত্র গ্রহণ করা যাবে। যদিও ফেডারেল আইনে বলা আছে ভোটপত্র নির্বাচনের দিনেই প্রাপ্ত হতে হবে, তবুও প্রায় ত্রিশটি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি নির্বাচনের পরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোটপত্র গ্রহণ করে থাকে। মিসিসিপিও তাদের রাজ্যে নির্বাচনের পরে পাঁচ কার্যদিবস পর্যন্ত ভোটপত্র গ্রহণ করে থাকে।
এই মামলাটি মূলত দায়ের করেছে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি ও মিসিসিপির রিপাবলিকান পার্টি। তারা মিসিসিপির সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইকেল ওয়াটসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে নির্বাচনের জালিয়াতি রোধে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ফেডারেল ট্রায়াল কোর্ট এই অভিযোগ খারিজ করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সার্কিট কোর্ট অভিযোগটি গ্রহণ করে রাজ্যের আইনটিকে বাতিল করে দেয়। তারা যুক্তি দেখায় যে ফেডারেল আইনের সঙ্গে রাজ্যের আইনের বিরোধ রয়েছে।
মিসিসিপির রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বলে যে পঞ্চম সার্কিট আদালতের রায়টি সংবিধান বিরোধী এবং তা অন্যান্য রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করবে। মিসিসিপির যুক্তি হলো, প্রায় ত্রিশটি রাজ্য নির্বাচনের পরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোটপত্র গ্রহণ করে থাকে। তারা আরও জানায় যে এই রায়টি যদি বহাল থাকে, তবে অধিকাংশ রাজ্যের নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করতে হবে।
অন্যদিকে, ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস যুক্তি দেখায় যে নির্বাচনের পরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভোটপত্র গ্রহণ করার মাধ্যমে প্রবাসী ও সামরিক কর্মীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়। তারা জানায় যে গৃহযুদ্ধের আগে থেকেই প্রবাসী ও সামরিক কর্মীদের জন্য ভোটিং প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির নির্বাচনী সততা বিভাগের পরিচালক অ্যালি ত্রিওলো বলেন, “এই মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ করবে: নির্বাচনের জন্য একটি দিনই রয়েছে, একাধিক দিন নয়। ফেডারেল আইন অনুসারে ভোটপত্র নির্বাচনের দিনেই প্রাপ্ত হতে হবে। যদি ভোটপত্র নির্বাচনের পরে আসে, তবে তা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং ভোটারদের আস্থা কমিয়ে দেবে। আর এটি জালিয়াতির দ্বারও উন্মুক্ত করবে। আর সেজন্যই রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার জন্য লড়ছে।”
এখন দেখার বিষয় সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর তারা কী রায় দেয়। এই রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।
মন্তব্য করুন