যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডায় ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যদিও তিনি নিজেই ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থাকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউস এবার পাল্টা যুক্তি তুলে ধরে বলেছে, এটি কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, SAVE America Act-এর অধীনে অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা, সামরিক কর্মী বা ভ্রমণের কারণে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সর্বজনীন ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থা প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এটা কোনও খবর নয়।” তিনি আরও বলেন, “সবাই জানে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডার পালম বিচের বাসিন্দা হলেও তিনি মূলত ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে বসবাস করেন। তাই এই ঘটনাকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও কারণ নেই।”
গত মঙ্গলবার পালম বিচ কাউন্টিতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ নির্বাচনে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন বলে প্রকাশিত সরকারি নথি থেকে জানা গেছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট এমিলি গ্রেগরি এবং রিপাবলিকান জন ম্যাপলস মুখোমুখি হন। ট্রাম্প অবশ্য গত সোমবার মেমফিসে এক জনসভায় ডাকযোগে ভোটকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “ডাকযোগে ভোট মানেই প্রতারণা—আমি একে ডাকযোগে প্রতারণা বলি। এ ব্যাপারে আমাদের অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি আগেও বলেছিলেন যে অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা, সামরিক কর্মী বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। গত ৩ মার্চ তিনি Truth Social-এ একটি পোস্টে উল্লেখ করেন যে তাঁর প্রস্তাবিত Save America Act-এর অধীনে শুধুমাত্র অসুস্থ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সামরিক কর্মী বা ভ্রমণরত ব্যক্তিরাই ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন, ট্রাম্প নিজেই ডাকযোগে ভোট দিলেও সাধারণ মানুষকে তা থেকে বিরত রাখতে চাইছেন। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকরা বলছেন, তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি, বরং নির্বাচনী ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছেন। পালম বিচ কাউন্টি নির্বাচনের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল বেশ কম।
এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বিরোধ রয়েছে। রিপাবলিকানরা সাধারণত এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে থাকেন, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা একে গণতন্ত্রের প্রসারের অংশ হিসেবে দেখেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে অনেকেই তাঁর নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তাঁরা এই ঘটনাকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না।
এ বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য আসার সাথে সাথে আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দেব। ততক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতামত এবং বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা চলবে।
মন্তব্য করুন